ভুক্তভোগী মোহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত কার্তিক মাসে তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক বছরের জন্য জমি লিজ নেন। ওই জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী পাট কাটার পর ধান আবাদ শেষ হলে লিজের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু এর আগেই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ নিয়ে মঙ্গলবার গ্রামের একটি চা-দোকানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
মোহিরুল ইসলামের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি হুমকির মুখে ছিলেন। নিরাপত্তার শঙ্কায় বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। বুধবার সকালে কয়েকজন লোক নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে সরে গেলে বাড়ির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
মোহিরুল ইসলাম বলেন, “জমির বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ ছিল। কিন্তু নিজের চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি। এখন পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর বিলহরি গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।