নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত। শিশুদের মেধা বিকশিত ও শারীরিক পুষ্টিহীনতা দূর করতে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল প্রকল্প চালু করেছে। এটি নেত্রকোনায় সাতটি উপজেলায় চালু রয়েছে। এর মধ্যে মদন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
এ প্রকল্পে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে মদন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড-ডে মিলে নিম্নমানের রুটি, কাঁচা কলা ও পচা ডিম দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। উল্টো যিনি প্রতিবাদ করেন, তিনিই হন হয়রানির শিকার।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মদন উপজেলায় চলতি বছর গত ২৯শে মার্চ থেকে ৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১,৮০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন রোস্টার অনুসারে রুটি, ডিম, দুধ ও কলা বিতরণ করে আসছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রকল্পের শুরু থেকেই ঠিকাদারগণ মিড-ডে মিল নিম্নমানের খাবার দিয়ে আসছে।
রবিবার সরেজমিনে উপজেলার শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২- গিয়ে নিম্নমানের রুটি ও পচা ডিম দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী পায়েল, চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী অজুফা আক্তার ও স্বপ্না আক্তার সহ অনেকেই পচা ডিম, কাঁচা কলা ও মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি দেওয়ার কথা জানায়। এ খাবার খেয়ে অনেকেই প্রায়ই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়।
সহকারী শিক্ষক মানিক মিয়া বলেন, গত বৃহস্পতিবারে বিদ্যালয়ে পচা ডিম দেওয়া হয়েছিল। ৩৫টি পচা ডিম ফেলে দেওয়া হয়। এগুলোর ভিডিও আছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সমতা ট্রেডার্স’-এর পরিচালক মাহবুব জানান, তারা নিজেরা এসব দেয় না, অন্যদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীন সুলতানা বলেন, মিড-ডে মিলের নিম্নমানের এসব খাবার না দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে অনুরোধ করা হয়েছে কিন্তু তারা তাদের মত করেই দিচ্ছে প্রায় সময় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি। কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা জানান, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিটিং করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সমাধান আসেনি।