হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে অসম্পূর্ণ ও প্রেক্ষাপটবিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
রোববার (২৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেবিচক জানায়, আগামী বছরের পরিবর্তে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই থার্ড টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন কার্যক্রম, চুক্তি বাস্তবায়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি, অনুমোদিত নথি, চুক্তির শর্ত এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি।
বেবিচক জানায়, থার্ড টার্মিনালের মূল অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অপারেশনাল রেডিনেস নিশ্চিত করা, জটিল কারিগরি ও পরিচালনাগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় লেগেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বর্তমানে প্রকল্পের চূড়ান্ত ধাপের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টার্মিনালটি যাত্রী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বেবিচকের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মেগাপ্রকল্প সম্পর্কে তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণ এবং দেশের সামগ্রিক বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বেবিচক জানিয়েছে, এ-সংক্রান্ত যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্রকে ঘিরে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।