মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিবেদকঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের ভাইমারা গ্রামে ২ পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় রাশিদুল ও জাহিদ নামের ২ জন আহত ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয় রাশিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমি খারুয়ানন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেরানী হিসেবে চাকুরী করি।
৩ নং পোতাজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি উক্ত বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি করে বসবাস করছিল। গ্রামবাসী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আশরাফুল ও তার পরিবারের লোকজন আমার উপরে হামলা চালিয়ে আহত করে। পরে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় আবারো তারা হামলা চালায়। পরদিন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আশরাফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জায়গা বেদখল নেয়। খারুয়ানন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেরানী রাশিদুল ইসলাম পথ দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম তার পথ আটকিয়ে তোর এত বড় সাহস তুই গ্রামবাসিকে সাথে নিয়ে আমার নামে ইউএনও কাছে অভিযোগ করিস বলে গলায় ছুরি ধরে পরে বউ ছেলে মিলে তার উপর হামলা চালায়। পরে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেবা শেষে বাড়ি ফেরার সময় আবার হামলা চালায়।
গ্রামবাসী আরো বলেন, আমরা চাই বিদ্যালয়ের এই ১৭ শতাংশ জায়গা আমাদের ছেলেদের খেলাধুলা করার জন্য কোনো মাঠ নাই। তাই আমরা এই ১৭ শতাংশ জায়গা খেলা ধুলার মাঠ করে দিতে চাই। এবং সন্ত্রাসী আশরাফুল ইসলামের কঠিন বিচার চাই।
এ বিষয়ে খারুয়ানন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়মা সুলতানা বলেন, আমার স্কুলের জায়গা মোট ৩৩ শতাংশ বাকি যে জায়গাতে সমস্যা সেটা ১৭ শতাংশ গত শুক্রবার সেদিন রাস্তা দিয়ে রাশিদুল ইসলাম আসার সময় শিফটির ডাল কেটে দিলে তার উপর হামলা চালায়। পরে গ্রামবাসী মিলে তাকে উচ্ছেদ করে।
গ্রামবাসি মোঃ আলম প্রা: বলেন এই গ্রামে আমার বাড়ি ২০০৮ সালে যখন আওয়ামী লীগের চয়ন ইসলাম যখন আসে তখন জোর জবরদস্তি করে পুরাতন বিদ্যালয়ের জায়গায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে। যে বাধা দিতে গেছে তাকে মারধর বিভিন্ন মামলার হুমকি ধামকি এবং শাহজাদপুর থেকে নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে এসে গ্রামের মানুষের উপর হয়রানি করে। পরে গ্রামবাসী ও প্রধান শিক্ষক মিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দেন। তখন আশরাফুল ইসলাম দুই মাসের সময় নেই কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও জায়গায় ছেড়ে দেয় না।
এবিষয়ে আশরাফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন তারাই আমাদের উপরে হামলা চালিয়ে আমার ছেলেকে গুরুতর আহত করে। ছেলেকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আমার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে এবং টাকা পয়শা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।