নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের অবহেলায় প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতার টাকা ফেরত ও বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। গত ২৯জুন দেওশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অধিদপ্তর এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ১৬জুলাই ওই কমিটির সদস্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্ত করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় আটপাড়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ইন্টারনেট বাবদ প্রতি বিদ্যালয়ের জন্য ৬হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলার ১০৩টি বিদ্যালয়ের ৬লাখ ১৮হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এ টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই উত্তোলন করেন। শিক্ষকগণ ইন্টারনেট ভাতা চাইলে ভ্যাট আইটি প্রদান করার কথা বলেন শিক্ষা কর্মকর্তা। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সন্দেহ হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রধান শিক্ষকের যাতায়াতের ভাতাও পায়নি তারা। শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলায় যাতায়াত ভাতার টাকা ফেরত যায়।
জানা গেছে, উপজেলার দেহশ্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ১৩জুলাই এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামকে তদন্ত করতে এক চিঠিতে আদেশে দেন। গত ১৬জুলাই তিনি আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা করা অফিসে তদন্ত করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলায় ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বিদ্যালয়ের প্রতি অর্থ বছরের ন্যায় এ বছরও স্লিপের টাকা বরাদ্দ হয়। একই সাথে কয়েকটি বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব কাজের বিল ভাউচার জমা দেওয়ার পর তাদের বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ভ্যাট আইটি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে বাকী টাকা উত্তোলন করতে হয়। প্রত্যেক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সুবিধার জন্য ছয় হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রতিবছর শিক্ষা অফিস সহ উপজেলা বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য যাতায়াত ভাড়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে বিধি মালা অনুযায়ী শর্ত থাকে উপজেলা থেকে ৮কিলোমিটার এর মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য যাতায়াত ভাড়ার কোন বরাদ্দ থাকে না।
দেওশ্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী জানান, অফিসের পরামর্শে স্লিপের টাকার ও ইন্টারনেটের ভাতার ভ্যাট ব্যাংকে জমা দিয়েছি। কিন্তু ইন্টারনেট ভাতার টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয় না জানিয়ে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি স্লিপ ও ইন্টারনেট ভাতার ভ্যাট হিসেবে কর্তনের কথা জানান। এছাড়াও একটি সিন্ডিকেট করে তিনি প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতার নয়ছয় করে আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, বিলম্ব হওয়ার কারণে ইন্টারনেট ভাতার ভ্যাট জমা দেন। পরে ভাতার টাকা উত্তোলন করে শিক্ষকদের দিয়েছি। এখনও আমার ২০হাজার টাকা বিভিন্ন বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের কাছে থেকে পায়নি।
যাতায়াত ভাতা ফেরত দেওয়ার বিষয় তিনি বলেন শিক্ষকদের তাগাদা দিয়েছি কিন্তু সময় সল্পতার কারণে ভাতার টাকা ফেরত যায়। এখানে আমার কোন অবহেলা নাই।
তদন্ত কমিটির একমাত্র সদস্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করেছি। আমি এখন প্রশিক্ষণে থাকায় প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়নি। প্রশিক্ষণ শেষ করেই প্রতিবেদন পাঠাবো।