মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের অবহেলায় প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতার টাকা ফেরত ও বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। গত ২৯জুন দেওশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অধিদপ্তর এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন […]

নেত্রকোনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের অবহেলায় প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতার টাকা ফেরত ও বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। গত ২৯জুন দেওশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অধিদপ্তর এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ১৬জুলাই ওই কমিটির সদস্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্ত করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় আটপাড়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ইন্টারনেট বাবদ প্রতি বিদ্যালয়ের জন্য ৬হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলার ১০৩টি বিদ্যালয়ের ৬লাখ ১৮হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এ টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই উত্তোলন করেন। শিক্ষকগণ ইন্টারনেট ভাতা চাইলে ভ্যাট আইটি প্রদান করার কথা বলেন শিক্ষা কর্মকর্তা। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সন্দেহ হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রধান শিক্ষকের যাতায়াতের ভাতাও পায়নি তারা। শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলায় যাতায়াত ভাতার টাকা ফেরত যায়। 

জানা গেছে, উপজেলার দেহশ্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ১৩জুলাই এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামকে তদন্ত করতে এক চিঠিতে আদেশে দেন। গত ১৬জুলাই তিনি আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা করা অফিসে তদন্ত করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলায় ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বিদ্যালয়ের প্রতি অর্থ বছরের ন্যায় এ বছরও স্লিপের টাকা বরাদ্দ হয়। একই সাথে কয়েকটি বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব কাজের বিল ভাউচার জমা দেওয়ার পর তাদের বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ভ্যাট আইটি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে বাকী টাকা উত্তোলন করতে হয়। প্রত্যেক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সুবিধার জন্য ছয় হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রতিবছর শিক্ষা অফিস সহ উপজেলা বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য যাতায়াত ভাড়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে বিধি মালা অনুযায়ী শর্ত থাকে উপজেলা থেকে ৮কিলোমিটার এর মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য যাতায়াত ভাড়ার কোন বরাদ্দ থাকে না।

দেওশ্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুরা আক্তার শেলী জানান, অফিসের পরামর্শে স্লিপের টাকার ও ইন্টারনেটের ভাতার ভ্যাট ব্যাংকে জমা দিয়েছি। কিন্তু ইন্টারনেট ভাতার টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয় না জানিয়ে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি স্লিপ ও ইন্টারনেট ভাতার ভ্যাট হিসেবে কর্তনের কথা জানান। এছাড়াও একটি সিন্ডিকেট করে তিনি প্রধান শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতার নয়ছয় করে আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আটপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, বিলম্ব হওয়ার কারণে ইন্টারনেট ভাতার ভ্যাট জমা দেন। পরে ভাতার টাকা উত্তোলন করে শিক্ষকদের দিয়েছি। এখনও আমার ২০হাজার টাকা বিভিন্ন বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের কাছে থেকে পায়নি।  

যাতায়াত ভাতা ফেরত দেওয়ার বিষয় তিনি বলেন শিক্ষকদের তাগাদা দিয়েছি কিন্তু সময় সল্পতার কারণে ভাতার টাকা ফেরত যায়। এখানে আমার কোন অবহেলা নাই।

তদন্ত কমিটির একমাত্র সদস্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করেছি। আমি এখন প্রশিক্ষণে থাকায় প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়নি। প্রশিক্ষণ শেষ করেই প্রতিবেদন পাঠাবো।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।