মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জ জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ৬৭ হাজার ৭১১টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বিপরীতে জেলার চাহিদা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৭৯৫টি। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৯১৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯টি, মহিষ ২২৩টি, ছাগল ১৯ হাজার ৮৭৯টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৫৭০টি। এছাড়া ষাঁড় রয়েছে ৩৭ হাজার ২২৯টি, বলদ ৬৬৭টি এবং গাভী ৬ হাজার ১৪৩টি।
ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার ৪১টি কোরবানির পশুর হাট বসতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে টংগিবাড়ী উপজেলায়। সেখানে মোট ২১ হাজার ৯৮২টি পশু রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৮ হাজার ৪১০টি, ছাগল ১২ হাজার ৮৪৩টি এবং ভেড়া ৭২৪টি। উপজেলাটির চাহিদা ২১ হাজার ৩৭২টি হওয়ায় উদ্বৃত্ত থাকবে ৬১০টি পশু।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৬৫৮টি পশু। চাহিদা ৭ হাজার ৪৮৬টি হওয়ায় সেখানে উদ্বৃত্ত থাকবে ২ হাজার ১৭২টি পশু। লৌহজং উপজেলায় ৮ হাজার ২২০টি পশুর বিপরীতে চাহিদা ৬ হাজার ২৮৯টি। ফলে সেখানে উদ্বৃত্ত থাকবে ১ হাজার ৯৩১টি পশু।
গজারিয়া উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১২ হাজার ৭টি পশু। চাহিদা ১০ হাজার ১৯৩টি হওয়ায় সেখানে উদ্বৃত্ত থাকবে ১ হাজার ৮১৪টি পশু। অন্যদিকে সিরাজদিখান উপজেলায় ৬ হাজার ৭৬টি পশুর বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ৫ হাজার ৮৫৫টি। উপজেলাটিতে উদ্বৃত্ত থাকবে ২২১টি পশু।
শ্রীনগর উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে ৯ হাজার ৭৬৮টি পশু। চাহিদা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬০০টি। সেখানে অতিরিক্ত থাকবে ১৬৮টি পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কোরবানির পশু নিশ্চিত করতে জেলার খামারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না করার বিষয়েও খামারিদের সতর্ক করা হয়েছে।
খামারিরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি থাকায় ক্রেতারা পছন্দমতো পশু কেনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, বছরের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য মিলবে। প্রশাসনের কার্যকর তদারকি থাকলে নিরাপদ পশু বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলেও মনে করেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, “এবার প্রস্তুতি ভালো। মাঠপর্যায়ে আমাদের লোকজন কাজ করছে। গরুর মনিটরিংও ভালো চলছে। বাজারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ক্যাম্পেইনও চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে বলে আমরা ধারণা পাচ্ছি। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, তেলের বাজারের অস্থিরতা ও সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।”