শাহরিয়ার আহমেদ শাওনঃ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি কমিউনিটি ক্লিনিক নানা অনিয়ম দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত! সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মত্তকীর মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এখানে কমর্রত স্বাস্থ্য সেবাদানকারী কাজী মত্তকীরের স্বেচ্ছাচারিতায় ও দায়িত্বে অবহেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে৷ বিগত ২ মাস যাবৎ ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান৷
এ কারণে অনেক মানুষ চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ না পেয়ে নানা রকম হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। সরজমিনে সকাল ১০টার সময় গ্রামের লোকজন ওই ক্লিনিকে ওষুধ নিতে গিয়ে দেখেন একইভাবে ক্লিনিক বন্ধ।
এতে তারা সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কর্তব্যরত কেউ বা ক্লিনিকের সহকারীকে পান নি। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে (টিএইচও) এর মোবাইল নাম্বারে বিষয়টি অবগত করেন। এতে দুপুর অনুমান সাড়ে ১২টায় ক্লিনিক সহকারী এসে তালাবদ্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক খুলেন৷
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বিগত দুই মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকটি তালা বদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাকে অপসারণের জন্য প্রতিবাদ সভা ও গণস্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান সাধারণ নাগরিক বৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের কুর্শি কমিউনিটি ক্লিনিকে গতকাল রবিবার (২৯ মাচ) উল্লেখিত সময়ে কুর্শি, ফুটারমাটি ও ষাইটকাহন এলাকার সেবা গ্রহণকারীরা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে দূর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য সহকারীর অপসারাণ দাবী করেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, বিগত ২ মাস ধরে ক্লিনিক বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এই ক্লিনিকের সহকারী মাঝে মধ্যে ক্লিনিক খুললেও বিগত দুই বছর যাবৎ যোগদান করার পর থেকেই নানান অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার নামে অনিয়মই যেন তার কাছে নিয়মে পরিণত হয়েছে৷ হতদরিদ্রের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা নিয়ে ঔষধ দেয়ার অহরহ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রায়ই হতদরিদ্র রোগীদের ঔষধ নেই বলে নিজের ব্যাগে ভরে অন্যত্র ঔষধ নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী জনতারা অতিষ্ঠ হয়ে এই অসাধু স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দায়ের করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। অবশেষে সাধারণ জনতা উক্ত কিমিউনিটি ক্লিনিক (হাসপাতাল) এর সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হন ভূক্তভোগীরা।
এ সময় ক্লিনিকে তালাবদ্ধ থাকায় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শন ইনচার্জ বিপ্লব দাশ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে এর পূর্বে অভিযোগ পেয়েছেন বলেও জানান। এবং নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট এ বিষয়টি আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি
খবর পেয়ে স্বাস্থ্য সহকারী কাজী মত্তকীর মিয়া দুপুর অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে উক্ত ক্লিনিকে উপস্থিত হন। এ সময় ক্লিনিকের সামনে উপস্থিত জনতা তাকে ঘিরে কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালে কোন প্রকার ঔষধ নাই বলে জানান তিনি। এ সময় ক্লিনিকের ভিতরে ডুকে দেখা যায় অনেক গুলো ঔষধ বিদ্যমান আছে। এসব দেখার পর সে কিছু ঔষধ আছে বলেও স্বীকার করেন। এদিকে নির্ধারিত সময়ে
ক্লিনিক তালাবদ্ধ রাখার বিষয়ে অভিযুক্ত “দূনীতিবাজ সহকারী বহিস্কার হও তাড়াতাড়ি” এ স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠেন জনতা।
পরে গ্রামের মুরুব্বিয়ানদের সহযোগীতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়৷ এলাকাবাসী এই দূনীতিবাজ কর্মকর্মতাকে তাদের ক্লিনিকে না আসার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আবেদন সহ নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের অনুরোধ জানান।
সাংবাদিকরা তার কাছে বিগত দুই বছরের ঔষধ প্রাপ্তির তালিকা এবং রোগীদের মধ্যে ঔষধ বিতরণের তালিকা দেখতে চাইলে তিনি
নিদিষ্ট কোন কিছুই সঠিকভাবে দেখাতে পারেনি এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলেও জানান তিনি৷
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী৷