বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সিগঞ্জে আদিলুর রহমান খানের বাড়ির সামনে সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ভূইয়া পাড়া এলাকায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে একটি সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, রাস্তা সম্প্রসারণে যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি এবং প্রভাব খাটানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশ বলছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি […]

মুন্সিগঞ্জে আদিলুর রহমান খানের বাড়ির সামনে সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৮

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ভূইয়া পাড়া এলাকায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে একটি সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, রাস্তা সম্প্রসারণে যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি এবং প্রভাব খাটানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশ বলছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতেই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক কোটি টাকার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প দরপত্রের মাধ্যমে ১০ শতাংশ কম মূল্যে ৯০ লাখ টাকায় পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার। প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট নির্ধারণ করা হয়। তবে একটি মোড়ে জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দিলে সেখানে আরও ৪ ফুট বাড়িয়ে রাস্তার প্রস্থ ১৬ ফুট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে রাস্তাটি কাঁচা ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যেত। এতে এলাকার মানুষকে কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হতো। বর্তমানে রাস্তা নির্মাণের পর আশপাশের এলাকার মানুষ বাজার, স্কুলসহ বিভিন্ন কাজে সহজে যাতায়াত করতে পারছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমল থেকেই ষোলঘর বাজার থেকে কুমারবাড়ির ওপর দিয়ে ভূইয়া পাড়ার ভেতর দিয়ে একটি চলাচলের পথ ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ওই জমির মালিক হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেলে জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি দখল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ওই ১৬ ফুট প্রশস্ত পথে ইট বিছানো হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় জমিটি পুনরায় দখলে নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০৭ সালে একটি দেওয়ানি মামলা করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সিএস রেকর্ডভুক্ত হিন্দু মালিকরা দেশভাগের সময় ভারতে চলে যাওয়ায় ২৪ শতাংশ জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত হবে এবং জমির ওপর করা দলিল বাতিল করা হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিম্ন আদালতে সরকার মামলায় পরাজিত হয়।

পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জেলা প্রশাসন বিষয়টি হাইকোর্টে আপিল করলে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করা হয়। আদালত রুবেল গংয়ের ১২ শতাংশ জমির স্বত্ব বাতিল করেন এবং বাকি ১২ শতাংশ জমির দলিল যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর ওই জমির একটি অংশ খাস খতিয়ানভুক্ত করে সেখানে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিকে রাস্তা নির্মাণের পর থেকেই একটি পক্ষ বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সহায়তায় জমি দখলসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, রাস্তা সম্প্রসারণে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের জমির ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্মাণকাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওরিয়া কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার সাইফুর রহমান বলেন, প্রকল্প অনুযায়ীই সড়কের কাজ করা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধা বিবেচনায় রেখেই কিছু অংশে রাস্তার প্রস্থ বাড়ানো হয়েছে।

শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলাম বলেন, “শুধু আদিলুর রহমান খানের বাড়ির সামনে নয়, পুরো সংযোগ সড়কটিই সংকীর্ণ ছিল। তাই সেটি প্রশস্ত করা হয়েছে, যাতে এলাকাবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।”

এদিকে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের এক বাল্যবন্ধুকে সুবিধা দিতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে স্থানীয়রা জানান, ওই ব্রিজ দিয়ে আশপাশের প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করছেন এবং এতে তারা উপকৃত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, সড়কটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমিয়েছে। তবে অন্যদিকে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।