সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

“প্রকৃতিকন্যা বাকৃবি : ৬৫ বছরের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের যাত্রা”

বাকৃবি প্রতিনিধি  সবুজ শ্যামল প্রান্তর দ্বারা ময়মনসিংহের বুক চিরে বয়ে চলা প্রাচীন ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিম তীরে বিস্তৃত। তারই কোলে দাঁড়িয়ে আছে এক স্বপ্নপুরী, এক আলোকদ্বীপ- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ইতিহাসে যার অবদান নদীর জলের মতোই অবিরাম, স্থির অথচ প্রাণময়। গ্রামবাংলার প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষকের ঘাম ও মাটির গন্ধে ভরা এই ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির নিজ হাতে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৫, ০২:০৯

বাকৃবি প্রতিনিধি

 সবুজ শ্যামল প্রান্তর দ্বারা ময়মনসিংহের বুক চিরে বয়ে চলা প্রাচীন ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিম তীরে বিস্তৃত। তারই কোলে দাঁড়িয়ে আছে এক স্বপ্নপুরী, এক আলোকদ্বীপ- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ইতিহাসে যার অবদান নদীর জলের মতোই অবিরাম, স্থির অথচ প্রাণময়।

গ্রামবাংলার প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষকের ঘাম ও মাটির গন্ধে ভরা এই ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক কাব্য। আজ এই বিশ্ববিদ্যালয় ৬৫ বছরে পা রাখল, এ যেন সংগ্রামী যাত্রায় মাটির সন্তানদের গৌরবময় মাইলফলক।

১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট। ব্রহ্মপুত্রের কোলঘেঁষে ১২শ একর জমির ওপর জন্ম নেয় কৃষিবিদ তৈরির এই স্বপ্নসিঁড়ি। ৬টি অনুষদ ও ৪৬টি বিভাগ নিয়ে যা আজ বিশ্বমানের গবেষণালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি মোট ৫৭ হাজার ৮শ ৯ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে।

যাদের মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ৩২ হাজার ৯শ ১৭ জন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ২৩ হাজার ৮শ ৪৩ জন, পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৪৯ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। আর তাঁদের পথপ্রদর্শক আছেন ৫শ ১৪ জন শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পথ সুগম করতে এখানে রয়েছে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার যার বর্তমান সংগ্রহ সংখ্যা- পুস্তক ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৯শ ৭২ ভলিউম (২২ হাজার ৬শ ১৬ টি থিসিস এবং ৪৭ হাজার ৬১ ভলিউম বাধাইকৃত সাময়িকী), ই-বুকস ৪১শ’টি টাইটেল এবং বিভিন্ন অনলাইন জার্নাল প্লাটফর্ম (যেমন- LiCoB, BIPC, Research4life, AGORA, HINARI, OARE, ARDI, GOALI, UDL, BANGLAJOL)।

শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য বর্তমানে রয়েছে মোট ১৪ টি হল। ছেলেদের জন্য আবাসিক হল রয়েছে ৯টি ও মেয়েদের জন্য আবাসিক হল রয়েছে ৫ টি। এছাড়াও মেয়েদের জন্য আরও ২টি হল নির্মাণধীন আছে।

শুধু সংখ্যা নয়, স্বপ্নের মাপকাঠিই হলো আসল গুণমান। তাই শিক্ষা ও গবেষণার মানদণ্ডে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে বাকৃবি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই) ২০২৫ সালের এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৪০১-৫০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে বাকৃবি।

ওয়েবমেট্রিক্সের সাম্প্রতিক র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম, দেশের পাবলিক-প্রাইভেট সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নবম, আর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৩২৩তম অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই শিক্ষাঙ্গন।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে কৃষিবিজ্ঞান ও গবেষণার উর্বর ক্ষেত্র। কৃষির প্রতিটি ধাপে আছে তাঁদের হাতের স্পর্শ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান, খরা সহিষ্ণু ফসল, উচ্চফলনশীল জাত, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, প্রাণিজ ভ্যাকসিন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, এসবই বাকৃবির অবদান।

গবেষণাগারে জেগে ওঠা অসংখ্য উদ্ভাবনের মধ্যে আছে বাউধান-৬৩, বাউধান-২, বাউধান-৩; বাউকুল ‘সম্পন্ন’ ও ‘সম্বল’; শর্ষের জাত বাউ-এম/৩৯৫, বাউ-এম/৩৯৬, অল্টারনারিয়া ব্লাইট প্রতিরোধী বাউ শর্ষে-৪, ৫, ৬। আছে সয়াবিনের জাত ‘ডেভিস’, ‘ব্র্যাগ’, ‘সোহাগ’ ও ‘বিএস-৪’; আলুর জাত ‘কমলা সুন্দরী’ ও ‘তৃপ্তি’; কচুরমুখি ‘লতিরাজ’, ‘বিলাসী’, ‘দৌলতপুরী’; মিষ্টি আলুর তিনটি উন্নত জাত।

আছে সৌরতাপে বীজ রোগনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, শুকনো পদ্ধতিতে বোরো চাষ, অ্যারোবেক প্রযুক্তি, রাইজোবিয়াল জৈব সার,মাটি ও পানিতে ব্যবহারযোগ্য পরিবেশবান্ধব ছত্রাকনাশক ও সয়েল টেস্টিং কিট।

প্রাণিসম্পদ খাতে যোগ হয়েছে যুগান্তকারী সাফল্য। প্রাণিসেবা সহজ করতে তৈরি করা হয় মোবাইল অ্যাপ: ‘ডিজিটাল খামারি’। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউক্যাসলের ভ্যাক্সিন, গবাদিপশুর ম্যাসটাইটিসের ভ্যাক্সিন, ব্রুসেলা ভ্যাক্সিন, ফাউল কলেরার ভ্যাক্সিন, উন্নতজাতের পশুপাখি, প্রোবায়োটিক খাদ্য, ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন, ক্লোনিং প্রযুক্তি -সবই বাকৃবি গবেষকদের মেধার অবদান।

মৎস্য খাতেও সাফল্যের ব্যাপক সমারোহ আছে। দেশি মাছের কৃত্রিম প্রজনন, হাইব্রিড তেলাপিয়া ও মাগুর, খাঁচায় মাছ চাষ, ধানখেতে মাছ চাষ, মাছের জিনোম সিকোয়েন্স, পোনার ব্ল্যাক সোলজার খাদ্য প্রযুক্তি-সবই কৃষকের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন সম্ভাবনা।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম’ এবং ১৯৮৯ সালে গড়ে ওঠা ‘সম্প্রসারণ কেন্দ্র’ মাঠপর্যায়ে নিয়ে গেছে ল্যাবের উদ্ভাবনগুলো। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত বীজ, সার, মাছ চাষ পদ্ধতি কিংবা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প সবই কৃষকের ঘরে পৌঁছে গেছে।

ক্যাম্পাসেই আছে দেশ-বিদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ফুড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট, হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটসহ নানা প্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তুলেছে গবেষণার স্বর্ণক্ষেত্র।

এছাড়া দেশের প্রথম কৃষি জাদুঘর, উপমহাদেশের প্রথম মৎস্য জাদুঘর, প্রায় সাড়ে চার হাজার বৃক্ষের বোটানিক্যাল গার্ডেন আর ১১ হাজারেরও বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির জার্মপ্লাজম সেন্টার-সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস যেন এক জীবন্ত কৃষি-অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার।

২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট ভোরের আলো ফুঁড়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে উড়ল জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা। কবুতর অবমুক্ত হলো, বেজে উঠল আনন্দর‌্যালির ঢোল। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ আর সেমিনারে মুখর হলো ক্যাম্পাস।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে “গৌরবের ৬৪ বছর: অর্জন ও সম্ভাবনা” শীর্ষক আলোচনায় মিলল অতীতের সাফল্য আর ভবিষ্যতের স্বপ্নের রূপরেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ-মন্দিরে কৃষির অগ্রগতি ও দেশের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা হলো আন্তরিকতায়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী তানজিলা হক বলেন, “বাকৃবি আমার কাছে কেবল একটা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটা আমার দ্বিতীয় বাড়ি। প্রতিটি গাছ, প্রতিটি লেক, প্রতিটি গবেষণাগারে আমি যেন নিজের স্বপ্নকে বেড়ে উঠতে দেখি। যখন শুনি আমাদের উদ্ভাবিত নতুন ধান বা সবজির জাত কৃষকের মাঠে ফলছে, তখন বুক ভরে যায় গর্বে। আমি মনে করি এই মাটির সঙ্গে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার আত্মার যোগ রয়েছে।”

ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “আমি গ্রাম থেকে এসেছি। ছোটবেলায় গরু-ছাগল অসুস্থ হলে আমরা ভেবেছি, যদি কেউ সাহায্য করত! আজ সেই স্বপ্ন নিয়েই আমি বাকৃবিতে পড়ছি। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয় আমি শুধু ডাক্তার হচ্ছি না, আমি কৃষকের ভরসা হয়ে উঠছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনগুলো দেখলে বুঝি, আমি সঠিক জায়গায় এসেছি। এ জায়গার প্রতি আমার ভালোবাসা আজীবন বহন করব।”

মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “আমাদের গ্রামে মাছ ধরা মানেই ছিল জীবনযুদ্ধ। বাকৃবিতে এসে দেখলাম মাছ শুধু খাবার নয়, এটা এক বিশাল সম্ভাবনা। যখন শুনি দেশি মাছের প্রজনন বা খাঁচায় মাছ চাষের প্রযুক্তি এখান থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন চোখে পানি চলে আসে। মনে হয় আমার বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আমাকে গড়ে তুলছে না, পুরো বাংলাদেশকে গড়ে তুলছে।”

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন বলেন, “প্রথম দিন যখন এই ক্যাম্পাসে পা রাখি, মনে হয়েছিল আমি স্বপ্নের ভেতর ঢুকে গেছি। চারদিকে সবুজ, গবেষণাগারে নতুন প্রযুক্তি, শিক্ষকদের স্নেহ -সব মিলিয়ে এটা যেন আলোকিত পৃথিবী। আমি বিশ্বাস করি, বাকৃবি শুধু জ্ঞান দেয় না, দায়িত্বও শেখায়। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমি এমন এক পরিবারের অংশ, যারা কৃষি আর কৃষকের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে।”

বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্পর্কে বলেন, বিশ্বমানের পাঠ্যসূচি, অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-সহযোগিতার মাধ্যমে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা আজ অর্জন করছে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া ডিগ্রিসমূহ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এর চাহিদা রয়েছে বিশ্বব্যাপী।

এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি দেশের সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মাতৃসম এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে উত্তীর্ণ কৃষিবিজ্ঞানীদের অনেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পুরস্কৃত হয়েছেন এবং একই সাথে পেশাগত পূর্ণতায় বিকশিত হয়ে দেশের কৃষি-সংস্কৃতির পরিমণ্ডলকে করেছেন সমৃদ্ধ ও আলোকিত।

ফলে দেশ আজ ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে অসামান্য সাফল্য লাভ করতে পেরেছে। কৃষিক্ষেত্রে  গ্র্যাজুয়েটদের – এটি আজ সর্বজন স্বীকৃত। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই পরম লগ্নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই, জেলা প্রশাসন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রতিবেশীসহ সকল স্তরের জনগণকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষাঙ্গন নয়, এটি প্রকৃতির কন্যা-যে মাটির বুকে জন্ম নিয়ে কৃষকের ঘামকে রূপান্তর করেছে সোনালি ধানে, মাছের ঝাঁকে, প্রাণীর স্বাস্থ্যোন্নয়নে, আর প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে। ৬৫ বছরের স্বপ্নযাত্রা একদিকে ইতিহাস, অন্যদিকে ভবিষ্যতের দিশা।

আজ যখন জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি, কৃষিজমির ক্রমহ্রাস, খাদ্যনিরাপত্তার চাপ আমাদের সামনে, তখন বাকৃবি এক নির্ভরতার নাম। আগামী দিনেও এই প্রকৃতিকন্যা তার সবুজ হাতছানি দিয়ে কৃষিকে, কৃষককে, আর বাংলার মানুষকে বাঁচিয়ে রাখবে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়।

শিক্ষাঙ্গন

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার

শেকৃবি প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৮

শেকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কৃষিবিদ সানোয়ার আলম সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

এদিকে যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

শিক্ষাঙ্গন

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে […]

নিউজ ডেস্ক

০২ মে ২০২৬, ১৬:০০

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এতে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়, যা অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মাথায় রেখেই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই যদি সব পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়, তাহলে সিলেবাস, ক্লাস টেস্ট ও বোর্ড পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং দুই বছরের মধ্যেই নির্ধারিত পাঠক্রম শেষ করতে পারবে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসকে পুরোপুরি পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান, লক্ষ্য হচ্ছে—শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে কোনো সেশনজট ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় যেতে পারবে। কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে এবং সবকিছু প্রস্তুত থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হতে পারে।

তবে নতুন সময়সূচি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস সম্পন্ন করার ওপর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে পরিকল্পনা ঠিক করা জরুরি—অ্যাকাডেমিক বছর ডিসেম্বরেই শেষ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পুরো শিক্ষা কার্যক্রম সাজাতে হবে।

এদিকে শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি বাস্তবসম্মত নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আবু তাহের, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ মে ২০২৬, ২৩:০১

আবু তাহের, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ অফিসার শাম্মি আক্তার রুমি এবং বাংলালিংকের ইন্টার্ন (এইচআর) নোমান কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম জনি।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের কেস সমাধানের কৌশল, কৌশলগত চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান এবং কাঠামোবদ্ধ বিশ্লেষণ বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি শিহাব সারওয়ার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বড় কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। সেই পথে বিজনেস কেস কম্পিটিশনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই লক্ষ্যেই আমরা সেমিনারটি আয়োজন করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। আশা করছি শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পেয়েছে।’

উল্লেখ্য, সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থীঅংশ নেন।