বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

উচ্ছেদের ৪ দিনের মধ্যেই ফের চলছে খালসহ আবাদি জমি ভরাট

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদি বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপদের খালসহ ৩ ফসলি জমি ভরাট চলছে । গত ৪ দিন আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ওয়াজেদ ওয়াসীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়ে ওই স্থানে বাশঁ দিয়ে নির্মিত বেড়া উচ্ছেদ করে আসলেও ফের ওই স্থানে ভরাট করছেন কতিপয় ব্যাক্তি।  […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ জুলাই ২০২৫, ০২:৫৫

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদি বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপদের খালসহ ৩ ফসলি জমি ভরাট চলছে । গত ৪ দিন আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ওয়াজেদ ওয়াসীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়ে ওই স্থানে বাশঁ দিয়ে নির্মিত বেড়া উচ্ছেদ করে আসলেও ফের ওই স্থানে ভরাট করছেন কতিপয় ব্যাক্তি। 

স্থাণীয়রা জানান , গুরুত্বপূর্ণ খালটি ওই এলাকায় কাজকির খাল হিসাবে পরিচিত। খালটি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার পদ্মা নদী হতে উৎপান্ন হয়ে বেশ কয়েকটি গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদী বাজার এলাকার কাজল রেখা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। 

খালটি দিয়ে উপজেলার কাঠাদিয়া, শিমুলিয়া, আলদি, হাটকান, জসলং ছোটকাওয়ার সহ বেশ কিছু বিলের জমির পানি প্রবাহিত হয়ে থাকে। খালটির উপরে বেশ কয়েকটি সরকারী অর্থায়নে নির্মিত সেতুও রয়েছে বলে জানান স্থাণীয়রা। কিন্তু বিগত প্রায় ১৫ দিন যাবৎ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মহিষপুর গ্রামের আওলাদ হোসেন , কাদির হোসেন গংরা আলদি বাজার সংগ্লগ্ন এলাকায় ৩ ফসলি জমিসহ খালটির ৩০০ ফিটের মধ্যে বেকু দিয়ে মাটি কেটে ভরাট করে দুটি বাঁধ নির্মাণ করছেন।

পরে ওই খালসহ পাশের জমিটি ড্রেজার পাইপ দিয়ে ভরাট করা হবে বলেও জানান স্থাণীয়রা। গত বৃহস্পতিবার রাতে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খালের উপর তৈরী করা বাশেঁর বেড়া ভেঙ্গে দিলেও পূনরায় ও বেড়া সংস্কার শেষে মাটি দিয়ে বাধ নির্মাণ চলছে।

সরেজমিনে সোমবার বিকালে গিয়ে দেখা যায় বেকু মেশিন দিয়ে খালের মধ্যে বাধ নির্মাণ কাজ চলছে। মাত্র ৪ দিন আগে তুলে ফেলা বাশঁ দিয়ে ইতিমধ্যে খালের মধ্যে বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। বেড়া নির্মাণের পরে বেড়ার পাশে খাল ভরাট কাজ চলছে। ভরাট কাজের তদারকি করছেন মহিষপুর গ্রামের কাদির হোসেন। 

তিনি বলেন, খালের পাশের জমিটি আমাদের ৬ ভাইয়ের । পাশের খালটি সড়ক ও জনপদের বলে শিকার করে তিনি আরো বলেন , আমরা সড়ক ও জনপদ হতে অনুমতি নিয়েই খাল ভরাট করছি। এ সময় অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তিনি বলেন, বেকুর মালিক হাবিব এর কাছে অনুমতি পত্র রয়েছে । অনুমতি পত্র এনে সাংবাদিকদের দেখাতে বলতে তিনি নানা তালবাহানা শুরু করেন। 

এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) সদস্য সচিব জাহিদ হাসান বলেন, খাল উদ্ধারে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলছি। যদি কেউ নতুন করে খাল ভরাট করে তবে বিষয়টি আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করবো। টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন খাল ভরাটের কারনে অল্প বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আলুসহ বিভিন্ন সবজির ব্যাপকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি টঙ্গিবাড়ী এ্যাসিল্যান্ডকে অবহিত করেছিলাম। মাপ ঝোপের কি একটি বিষয় রয়েছে বলে জানাগেছে। 

এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ওয়াজেদ ওয়াশীফ বলেন, এর আগে অভিযান চালিয়ে ওই স্থাণের নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে আসা হয়েছে। আবার কোন ভরাট করলে আবারো ভেঙ্গে দিবো। 

মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুস হোসেন সাকিব বলেন, আমি ইতিমধ্যে ওই নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আসছি একটা চিঠিও ইসুৎ করছি। তারপরেও ওখানে কোন নিমার্ণ কাজ চলালে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন আমরা কোন অনুমতি দেয়নি। অনুমতির যদি কোন কাগজ দেখায় তাহলে বুঝতে হবে ওটা ভূয়া কাগজ।  

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।