মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদি বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপদের খালসহ ৩ ফসলি জমি ভরাট চলছে । গত ৪ দিন আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ওয়াজেদ ওয়াসীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়ে ওই স্থানে বাশঁ দিয়ে নির্মিত বেড়া উচ্ছেদ করে আসলেও ফের ওই স্থানে ভরাট করছেন কতিপয় ব্যাক্তি।
স্থাণীয়রা জানান , গুরুত্বপূর্ণ খালটি ওই এলাকায় কাজকির খাল হিসাবে পরিচিত। খালটি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার পদ্মা নদী হতে উৎপান্ন হয়ে বেশ কয়েকটি গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদী বাজার এলাকার কাজল রেখা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
খালটি দিয়ে উপজেলার কাঠাদিয়া, শিমুলিয়া, আলদি, হাটকান, জসলং ছোটকাওয়ার সহ বেশ কিছু বিলের জমির পানি প্রবাহিত হয়ে থাকে। খালটির উপরে বেশ কয়েকটি সরকারী অর্থায়নে নির্মিত সেতুও রয়েছে বলে জানান স্থাণীয়রা। কিন্তু বিগত প্রায় ১৫ দিন যাবৎ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মহিষপুর গ্রামের আওলাদ হোসেন , কাদির হোসেন গংরা আলদি বাজার সংগ্লগ্ন এলাকায় ৩ ফসলি জমিসহ খালটির ৩০০ ফিটের মধ্যে বেকু দিয়ে মাটি কেটে ভরাট করে দুটি বাঁধ নির্মাণ করছেন।
পরে ওই খালসহ পাশের জমিটি ড্রেজার পাইপ দিয়ে ভরাট করা হবে বলেও জানান স্থাণীয়রা। গত বৃহস্পতিবার রাতে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খালের উপর তৈরী করা বাশেঁর বেড়া ভেঙ্গে দিলেও পূনরায় ও বেড়া সংস্কার শেষে মাটি দিয়ে বাধ নির্মাণ চলছে।
সরেজমিনে সোমবার বিকালে গিয়ে দেখা যায় বেকু মেশিন দিয়ে খালের মধ্যে বাধ নির্মাণ কাজ চলছে। মাত্র ৪ দিন আগে তুলে ফেলা বাশঁ দিয়ে ইতিমধ্যে খালের মধ্যে বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। বেড়া নির্মাণের পরে বেড়ার পাশে খাল ভরাট কাজ চলছে। ভরাট কাজের তদারকি করছেন মহিষপুর গ্রামের কাদির হোসেন।
তিনি বলেন, খালের পাশের জমিটি আমাদের ৬ ভাইয়ের । পাশের খালটি সড়ক ও জনপদের বলে শিকার করে তিনি আরো বলেন , আমরা সড়ক ও জনপদ হতে অনুমতি নিয়েই খাল ভরাট করছি। এ সময় অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তিনি বলেন, বেকুর মালিক হাবিব এর কাছে অনুমতি পত্র রয়েছে । অনুমতি পত্র এনে সাংবাদিকদের দেখাতে বলতে তিনি নানা তালবাহানা শুরু করেন।
এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) সদস্য সচিব জাহিদ হাসান বলেন, খাল উদ্ধারে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলছি। যদি কেউ নতুন করে খাল ভরাট করে তবে বিষয়টি আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করবো। টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন খাল ভরাটের কারনে অল্প বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আলুসহ বিভিন্ন সবজির ব্যাপকভাবে ক্ষতি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি টঙ্গিবাড়ী এ্যাসিল্যান্ডকে অবহিত করেছিলাম। মাপ ঝোপের কি একটি বিষয় রয়েছে বলে জানাগেছে।
এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ওয়াজেদ ওয়াশীফ বলেন, এর আগে অভিযান চালিয়ে ওই স্থাণের নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে আসা হয়েছে। আবার কোন ভরাট করলে আবারো ভেঙ্গে দিবো।
মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুস হোসেন সাকিব বলেন, আমি ইতিমধ্যে ওই নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে আসছি একটা চিঠিও ইসুৎ করছি। তারপরেও ওখানে কোন নিমার্ণ কাজ চলালে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন আমরা কোন অনুমতি দেয়নি। অনুমতির যদি কোন কাগজ দেখায় তাহলে বুঝতে হবে ওটা ভূয়া কাগজ।