বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

আবাদি জমিতে পুকুর খনন উৎসব চলছে, গত ১০ বছরে কৃষি জমি কমেছে প্রায় ৮’শ বিঘার অধিক

মনিরুল ইসলাম , নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের নলডাঙ্গায় বিগত ১০ বছরে কমেছে প্রায় ৮০০ বিঘার চেয়ে বেশি কৃষি জমি। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে,প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে নির্বিচারে পুকুর খনন ও অন্যান্য স্থাপনা ও ফসলি জমিসহ পুকুর সংস্কারের নামে নির্বিচারে চলছে পুকুর খননের ফলে কমে গেছে কৃষি জমি।  বর্তমানে সরকারের সময়ও তার ব্যাতিক্রম নই। উপজেলা প্রসাশনের কঠোর হুশিয়ারির […]

আবাদি জমিতে পুকুর খনন উৎসব চলছে, গত ১০ বছরে কৃষি জমি কমেছে প্রায় ৮’শ বিঘার অধিক

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:১৯

মনিরুল ইসলাম , নাটোর প্রতিনিধিঃ

নাটোরের নলডাঙ্গায় বিগত ১০ বছরে কমেছে প্রায় ৮০০ বিঘার চেয়ে বেশি কৃষি জমি। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে,প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে নির্বিচারে পুকুর খনন ও অন্যান্য স্থাপনা ও ফসলি জমিসহ পুকুর সংস্কারের নামে নির্বিচারে চলছে পুকুর খননের ফলে কমে গেছে কৃষি জমি। 

বর্তমানে সরকারের সময়ও তার ব্যাতিক্রম নই। উপজেলা প্রসাশনের কঠোর হুশিয়ারির পরও কিছুতেই কমছে না পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রসাশন অভিযান চালিয়ে একাধিক পুকুর খনন বন্ধ করেছে এবং ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করেছে।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়,২০১৪ সালে উপজেলায় কৃষি জমির পরিমান ছিলো ১৪ হাজার ৬৫ হেক্টর,যা কমে ২৪ সালে দাড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমি। সেই সাথে সংকুচিত হয়েছে দেশের গভীরতম হালতিবিল। উপজেলায় পুকুর খননের মহোৎসব চললেও তা কিছুতেই রোধ করা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে,প্রশাসনের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির পরোক্ষ যোগসাজসে চলেছে এমন অপকর্ম।

আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পুকুর খনন করায় কমে যাচ্ছে আবাদী জমি। এতে কৃষি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতাসহ চাষাবাদের স্থায়ী ক্ষতির সম্মুক্ষিন হচ্ছেন কৃষকরা এবং পাকা সড়কে পুকুরের মাটি পরে পরিনত হয়েছে কাঁচা সড়কে।

ফসলি জমিতে পুকুর খননে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা করেনি কেউই। ফলে আবাদী জমির পরিমান কমে যাওয়া সহ খননকৃত পুকুরের পাশে শত শত বিঘা জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশংঙ্খা দেখা দিয়েছে।

এছারা ইচ্ছেমতো নষ্ট করা হচ্ছে দেশের সবচেয়ে গভীর জলাশয় হালতিবিলকে। বিলের ঠিক মাঝখানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং এখনও বিলে কৃষিতে স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে।

সে সময় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিলপারের মানুষ বাধা দিলেও নেতাদের দাপটে,সেটা আর থামানো যায়নি। যার ফলে বিলের স্বাভাবিক নৌ চলাচলে বাধাগ্রস্তের পাশাপাশি নস্ট করা হয়েছে কৃষি জমিকে।

বর্ষাকালে দেশী প্রজাতির অন্তত শতাধিক প্রজাতির মাছের আধার তৈরী হয় এই হালতিবিলে। উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ শিকার করে জীবন,জীবিকা চলে বিল দুটির অন্তত লক্ষাধিক মানুষের। কিন্তু বিলের মাঝখানে -বেসরকারী এমন স্থাপনায় পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্তের পাশাপাশি মাছের স্বাভাবিক প্রজনন নষ্ট করছে। এতে করে ব্যহত হচ্ছে মাছ উৎপাদনে। বর্তমানে উপজেলায় পুকুর রয়ে সাড়ে ৩ হাজার। যার মধ্য বিপ্রবেলঘরিয়া ও পিপরুল ইউনিয়নে বেশি।

হালতিবিলের যে অর্থণৈতিক গুরুত্ব,তা হয়তো দিন দিন শেষ করা হচ্ছে এমন সব স্থায়ী অবকাঠামো তৈরী করে। পুকুর খনন বন্ধে বিগত সময়ে কৃষকরা মানববন্ধনের মত প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করলে বন্ধ হয়নি নির্বিচারে পুকুর খনন। নির্বিচারে পুকুর খনন ও স্থানী স্থাপনা নির্মানের ফলে প্রভাব পড়ছে বিলের অঞ্চলের নানা পেশার মানুষের ওপর। তাই উপজেলায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ ও হালতি বিল রক্ষায় নতুন আর কোন স্থাপনা নির্মাণ না করে হালতিবিলকে সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষণার দাবি বিল পারের মানুষের।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা ও নলডাঙ্গা উপজেলার

সিনিয়ন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম ডাবলু,সান্টু ইসলাম,মাসুম হোসেন,কৃষক,পাভেল হোসেন,কার্তিক চন্দ্র,সন্তেষ প্রামানিক,সুনিল চন্দ্র,মিন্টু,মনুসহ অনেকে জানান,নলডাঙ্গা উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের সংসার চলে মাঠের ফসল উৎপাদন করে। পুকুর খনন করার কারনে সড়কের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। উপজেলার কিছু প্রভাবশালীর কারণে মাটি ব্যবসায়ীরা এসব কাজ করে থাকে জরুরী ভাবে প্রশাসনের কাছে দাবি হালতিবিলসহ উপজেলার কোথাও যেন কোন ভাবেই পুকুর খনন করতে দেওয়া না হয়।

এছারা সাম্প্রতিক ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল নাটোরের হালতিবিলে কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন এবং নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিলের ব্লকের বিভিন্ন কৃষিজমি ও ফসল পরিদর্শন করেন তারা। পরিদর্শন শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান মিস সারাহ জেলেস্কি ও মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ হালতিবিলের কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

নলডাঙ্গার সাবেক(সদ্য বিদায়ী) উপজেলা মৎস্য অফিসার সজ্ঞয় কুমার বলেন,উপজেলায় পুকুর রয়েছে সাড়ে ৩ হাজার। উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি পুকুর রয়েছে বিপ্রবেলঘরিয়া ও পিপরুল ইউনিয়নে। 

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সবুজ আলী বলেন,কোন ভাবেই কৃষি জমি পুকুরের আওয়াতায় আনা যাবেনা। আইনগত ভাবে নিষিন্ধ রয়েছে। কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে উন্ধতন কতৃপক্ষ সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পুকুর খনন বন্ধে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সাথে কাজ করছে।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো.আল এমরান খাঁন জানান,কৃষি জমি খনন করে,পুকুর খনন চলবেনা। মাটি কাটা বিষয়ে উপজেলা প্রসাশন কঠোর অবস্থানে আছে। সব সময় আমরা প্রস্তুত আছি,অভিযান চলবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।