শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

জম্মু–কাশ্মীরে নতুন করে শুরু হয়েছে জঙ্গি তৎপরতা

ভোটের আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু–কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে যারা মুখর ছিল, ভারতের সেই শাসক দল বিজেপির কপালের রেখা আবার গাঢ় হতে শুরু করেছে। ভোটের পর নতুন সরকার গঠনের সময় থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে জঙ্গি তৎপরতা। হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে চলেছে নতুন করে। তাতে প্রাণহানি ঘটছে। রক্ত ঝরছে। হঠাৎ কেন এই চোরাগোপ্তা আক্রমণ বৃদ্ধি, তা […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৪, ১৪:১০

ভোটের আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু–কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে যারা মুখর ছিল, ভারতের সেই শাসক দল বিজেপির কপালের রেখা আবার গাঢ় হতে শুরু করেছে। ভোটের পর নতুন সরকার গঠনের সময় থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে জঙ্গি তৎপরতা। হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে চলেছে নতুন করে।

তাতে প্রাণহানি ঘটছে। রক্ত ঝরছে। হঠাৎ কেন এই চোরাগোপ্তা আক্রমণ বৃদ্ধি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, অতি দ্রুত জম্মু–কাশ্মীর কি ফিরে যাচ্ছে সেই আগের অনিশ্চিত দিনগুলোয়?

দীর্ঘ ১০ বছর পর ভূস্বর্গে বিধানসভার ভোট হয়েছে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনায়। তিন দফার ভোট পর্ব শেষ হয় ১ অক্টোবর। ভোটের আগে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়ে উঠেছিল শান্তির নিকেতন। ৪ অক্টোবর গণনা শেষে জয়ী হয় ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)। ১৬ অক্টোবর আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ওমর আবদুল্লাহ্। তার পর থেকে গত রোববার পর্যন্ত ১৯ দিনে ১০টি সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে।

মারা গেছেন ও জখম হয়েছেন একাধিক সেনাসদস্য, সাধারণ মানুষ, পরিচিত চিকিৎসক, পরিযায়ী শ্রমিক ও জঙ্গি। কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন যে শ্রীনগরকে জঙ্গিমুক্ত বলে দাবি করেছিল, সেই শ্রীনগরের ব্যস্ততম এলাকা ট্যুরিস্ট রিসেপশন সেন্টারের সামনে গত রোববার গ্রেনেড হামলায় ১০ জন আহত হন। আচমকাই ফিরে এসেছে ভয়ের বাতাবরণ।

সেই সঙ্গে সন্দেহও। রাজনৈতিক স্তরে প্রশ্ন উঠে গেছে, নতুন নির্বাচিত সরকারকে নড়বড়ে করা, অস্থিতিশীল করে তোলা আচমকা এই সব সন্ত্রাসী হানার উদ্দেশ্য কি না। সে জন্য চক্রান্ত শুরু হয়েছে কি না।

সন্দেহ শুধু সন্দেহের স্তরেই থাকেনি, প্রকাশ্যে সেই সন্দেহ প্রকাশও করে ফেলেছেন ওমরের পিতা এনসির সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ। গত শনিবার শ্রীনগর ও অনন্তনাগ জেলায় দুটি পৃথক ঘটনায় লস্কর–এ–তইবার এক কমান্ডারের মৃত্যু ও চারজন নিরাপত্তারক্ষীর আহত হওয়ার ঘটনার পর ফারুক আবদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গিয়ানা বেড়ে গেল। কেন? কেন পরপর এত ঘটনা ঘটছে?

অবশ্যই এর তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘আমার সন্দেহ হচ্ছে, যারা এই সরকারকে থিতু হতে দিতে চায় না, তারা এই সব কাণ্ড হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা ধরা পড়লে জানা যেত কারা এসব করাচ্ছে। কোনো এজেন্সি ওমর আবদুল্লাহ সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে কি না। এর তদন্ত করে দেখা দরকার।

ফারুক আবদুল্লাহ কারও নাম করেননি। কিন্তু বিজেপি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের জম্মু–কাশ্মীর সভাপতি রবীন্দ্র রায়না বলেন, ‘তদন্তের কী আছে? সবাই জানে কারা এই সন্ত্রাসবাদের হোতা। পাকিস্তান এই অপকর্ম করে আসছে। তাদের বাধা দিচ্ছে আমাদের সেনা ও পুলিশ। প্রত্যেকের উচিত সেনা, পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তারক্ষীদের সমর্থন করা।

বিজেপির আরেক নেতা কবীন্দ্র গুপ্ত সরাসরি ফারুকের সমালোচনা করে বলেন, তাঁর মতো মানুষের এমন সন্দেহ করা উচিত নয়। এমন কথাও বলা উচিত নয়। ওমরের সরকারকে কেউ অপদস্থ বা দুর্বল করতে চাইছে না। সীমান্তপার থেকেই এই সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে, সবার তা জানা।

ফারুক অবশ্য একা নন, তাঁর নির্বাচনী শরিক ও ইন্ডিয়া জোটের সদস্য কংগ্রেসও একই ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তারিক হামিদ কাররাও ফারুকের সুরে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যা ঘটছে তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। ঘটনা ঘটার সময়টা সন্দেহ জাগাচ্ছে। নির্বাচন খুবই শান্তি কেটেছে। নির্বিঘ্নে সবাই প্রচার করেছে। কোথাও কিছু ঘটেনি। অথচ ভোটের পর সরকার গঠনের পর থেকেই শুরু হয়ে গেল তাণ্ডব ? আশ্চর্য এটাই!

জম্মু–কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এবারের ভোটের প্রধান বিষয় ছিল দ্রুত রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো। তাদের প্রত্যাশা ছিল ভোটের আগেই সেই প্রতিশ্রুতি কেন্দ্রীয় সরকার পালন করবে। কিন্তু তা হয়নি। সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো নিয়ে এক সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়।

দিল্লি এসে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে ওমর আবদুল্লাহ্‌ও ওই দাবি জানিয়ে গেছেন। যদিও কবে সেই দাবি মানা হবে, কবে কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে এখনো কিছু জানায়নি। সরকারি ভাষ্য, উপযুক্ত সময়েই তা করা হবে। সেই সময় কবে আসবে অজানা।

তবে জম্মু–কাশ্মীরের ভারপ্রাপ্ত বিজেপির নেতা রাম মাধব ভোটের পর এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে কিছুটা অর্থপূর্ণ ইঙ্গিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদেই সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পালিত হবে। তবে দেখতে হবে জম্মু–কাশ্মীরে যেন সেই সব ভয়ংকর দিন আবার ফিরে না আসে।

ওই মন্তব্য এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আবার অশান্ত হয়ে ওঠার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি? সেটাই কি রাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টির কারণ? তাই চক্রান্ত তত্ত্বের অবতারণা? এত দিন মোটামুটি শান্ত থাকার পর হুট করে সন্ত্রাসী হানা বেড়ে যাওয়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দিক থেকে এখনো কোনা ব্যাখ্যা অবশ্য আসেনি।

জঙ্গি হানা নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের এই আবহে সোমবার থেকে শুরু হলো বিধানসভার প্রথম অধিবেশন। প্রথম কাজ স্পিকার নির্বাচন। তারপর উপরাজ্যপালের ভাষণ। দেখার, সেই ভাষণে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো নিয়ে তিনি কোনো আশ্বাস দিতে পারেন কি না। আরও দেখার, রাজ্য দ্বিখণ্ডিকরণ ও ৩৭০ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক মর্যাদা খারিজের বিরুদ্ধে বিধানসভায় কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় কি না।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৯০

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৯০

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৯০

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৯০