ইরানের বন্দরমুখী একটি পণ্যবাহী জাহাজকে থামাতে ওমান উপসাগরে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে একটি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি নিক্ষেপ করা হয়। এতে জাহাজটির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী ‘এম/ভি ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটি ওমান উপসাগর দিয়ে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মার্কিন বাহিনী জাহাজটির বেসামরিক ক্রুদের একাধিকবার সতর্ক করে। তবে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হলে এমএইচ-৬০ মডেলের একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
হামলার পর জাহাজটি আর ইরানের দিকে যেতে পারেনি বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় এখনো ইরানের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন। অবরোধ অমান্য করে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের দিকে গেলে তা প্রতিহত করতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকম বলেছে, তাদের অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। ১১ আগস্ট পর্যন্ত অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়া তিনটি জাহাজ অচল এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের পাল্টা হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের ব্যবহৃত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইয়েমেন সরকারের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুতিদের ওই হামলায় তিনজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। হুতিরা জানিয়েছে, সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।
ফলে ইরানের বন্দর ঘিরে মার্কিন অবরোধ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?