দেশের লাইব্রেরি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নকালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরিগুলোর তালিকা দেওয়ার অনুরোধ জানান। আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
সংসদে মারদিয়া মমতাজ বলেন, বিগত সরকারের আমলে একটি প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি পাঠাগার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব কর্নারের নোটিশ বা হেডিং সরিয়ে নেওয়া হলেও পাঠাগারগুলো বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদপত্রের তথ্য উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৬৫ হাজার ৭০০ কপি বই সরবরাহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খাবার’সহ আটটি নির্দিষ্ট বিষয়ের বই রয়েছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মারদিয়া মমতাজ প্রস্তাব দেন, এসব লাইব্রেরি ও কর্নার সংস্কার করে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংবলিত ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার’-এ রূপান্তর করা যেতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তাও জানতে চান তিনি।
জবাবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে নেন। তিনি মারদিয়া মমতাজকে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরিগুলোর তালিকা তৈরি করে চিঠির মাধ্যমে তার কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান।