“বাড়িতে ছিলাম না, এর মধ্যেই পুরোনো মিটার খুলে নতুন প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে”এমন অভিযোগ নীলফামারীর ডোমারের একাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহকের। শুধু তাই নয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিলের কপি আটকে রাখা এবং গ্রাহকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে নেসকোর ডোমার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা কিংবা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই পুরোনো মিটার খুলে নতুন মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
ডোমার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহীপাড়ার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম (৫০) বলেন, তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে পুরোনো মিটার খুলে নতুন কার্ড মিটার লাগিয়ে দেন। অনুরোধ করেও তারা মিটার স্থাপন বন্ধ করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
মনোয়ারা বেগমের ভাষ্য, নতুন মিটারে ৫০০ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি মিটারে টাকা রিচার্জ করলে ওই টাকা সমন্বয় হয়ে যাবে। পাশাপাশি পুরোনো মিটারের জামানতের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে একই এলাকার আমিনা বেগম (৩০) বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে নতুন মিটার লাগানোর কথা জানিয়ে পুরোনো মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেন। পুরোনো মিটারে প্রায় ১৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে জানিয়ে এক বছর পর পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও নতুন মিটার স্থাপনে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
তিনি আরও বলেন, নতুন মিটারে তার মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়নি। ফলে রিচার্জ বা অন্যান্য তথ্যের বার্তা অন্য নম্বরে গেলে তারা কীভাবে জানতে পারবেন-এ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ডোমার বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামীমের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের কপি আটকে রেখে প্রিপেইড মিটার নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। একসঙ্গে বকেয়া বিল পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির সভাপতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব বলেন, গ্রাহকদের মতামত ও প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন নেসকোর ডোমার নির্বাহী প্রকৌশলী নওশাদ আলম।
তিনি বলেন, নতুন সংযোগ দেওয়া কিংবা কোনো গ্রাহকের মিটার নষ্ট হলে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক। এর বাইরে অন্য কোনো বিকল্প নেই। এটি নেসকোর একটি বড় প্রকল্প এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গ্রাহকের মিটারও প্রিপেইড করা হবে।
তবে গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে নওশাদ আলম বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেনি। কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, নেসকোর প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে পর্যাপ্ত তথ্য ও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ আরও
বাড়তে পারে।