পটুয়াখালী পৌর শহরের বিটাইপ সড়কে প্রবল বাতাস ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে একটি বিশাল চাম্বল গাছ শিকড়সহ উপড়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর পড়ে। এতে প্রায় তিন হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে পাশের সরকারি আবাসিক এলাকার একটি বাউন্ডারি ওয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।
জানা যায়, গাছটি ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর আছড়ে পড়ায় জৈনকাঠী ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছটি কেটে অপসারণ করে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
পরে ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি সরিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ওজোপাডিকোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খান বলেন, চাম্বল গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় তিন হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস গাছ অপসারণের পর বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইনের স্থায়ী মেরামতের কাজ চলছে।
পটুয়াখালী সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ রাজীব বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি অপসারণ করে। এতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা নিরাপদে মেরামতের কাজ করতে সক্ষম হন।
এ ঘটনার পর উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প বাতাস কিংবা মাঝারি মাত্রার ঝড়েও চাম্বল গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে বা পুরো গাছ উপড়ে যায়। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, সড়ক, বসতবাড়ি ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ঝড়, দমকা হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে চাম্বল গাছ। দীর্ঘদিন ধরে জনবসতির আশপাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ অপসারণ এবং নতুন করে এ গাছের চারা উৎপাদন ও রোপণ বন্ধে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ চাম্বল গাছ দ্রুত চিহ্নিত করে অপসারণ এবং এর পরিবর্তে নিরাপদ প্রজাতির গাছ রোপণের দাবি জানিয়েছেন।
এই প্রতিবেদনটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার নিউজ স্টাইলে আরও সংক্ষিপ্ত, গতিময় ও পাঠকবান্ধব করে সাজানো হয়েছে।