জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আবারও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হল দখল, ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর আফতাবনগরের সিরাজ কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় ছাত্রশক্তির সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘ফ্রম রেজিস্ট্যান্স টু ভিক্টরি: লেগ্যাসি অব জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর হামলা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি দাবি করেন। হবিগঞ্জে আলিফ নামে তাদের এক কর্মীর চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো সরকার যদি মনে করে ক্ষমতায় থেকে সবকিছু দখলে নেওয়া সম্ভব, তাহলে তার পরিণতি ভালো হয় না। এ বিষয়ে অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই বিপ্লবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ওই আন্দোলনে তাদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দমন-পীড়নের পর যখন আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি এবং তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব রাফে সালমান রিফাত, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নেতা।