মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করতে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে আবারও অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক তথ্য বিবরণীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ জানানো হয়। এতে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা সমুন্নত রাখা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণের স্বার্থে দেশের সব ধরনের গণমাধ্যম—টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
এর আগে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের নয়াদিল্লিতে সাউথ এশিয়ান ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। এ খবর প্রকাশের পরই তার বক্তব্য প্রচার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে সতর্কতা জানানো হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিবরণীতে বলা হয়, কিছু গণমাধ্যম আদালতের নির্দেশনা মেনে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকলেও কয়েকটি গণমাধ্যম এখনো দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার করছে। এ ঘটনায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিবরণীতে আরও বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও আইনি বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় দেশের সব গণমাধ্যমকে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিও দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকা গণমাধ্যমগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, জুলাই আন্দোলনের চেতনা এবং আদালতের নির্দেশনা—দুই বিষয় বিবেচনায় রেখে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।