জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির মাসে দেশে সংঘাত ও সহিংসতা কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদরা বিভক্ত ও সংঘাতময় বাংলাদেশ গড়ার জন্য জীবন দেননি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই কালচারাল ফেস্ট’-এর প্রথম দিনের আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তাজুল ইসলাম বলেন, গত এক বছরে সবাই একটি অভিন্ন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু এখন নিজেদের মধ্যে সংঘাত ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই না। সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখতে হবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যে জাতি তার বীরদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারে না, সে জাতির ইতিহাসে নতুন বীরের জন্ম কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থে সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গণহত্যা ও দমন-পীড়নে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেগুলোতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। তার ভাষায়, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের কিছু অংশকে সে সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি রোধে এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতুব্বর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান এবং চাকসুর সাবেক ভিপি জসীমউদ্দিন সরকার। এছাড়া বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।