সাবেক মন্ত্রী রবিউল মোকতাদিরকে জামিন দেওয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
গণহত্যা, মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আওয়ামী লীগের অভিযুক্ত নেতাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলামের আহ্বানে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এর আগে জেলার কান্দিপাড়া এলাকার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র, আলেম ও তৌহিদী জনতাসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় রবিউল মোকতাদির জড়িত ছিলেন। এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি তিনি জামিন পেতে পারেন। স্পষ্ট করে বলতে চাই, তাকে জামিন দেওয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অচল করে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ২০০১, ২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা প্রয়োজন।
হেফাজত মহাসচিব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্র ও আলেম সমাজ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে এবং আত্মত্যাগ করেছে। তবে অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ জালিমকে সময় দেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।’ কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির ওপর অন্যায় করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি মুবারকুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম কাসেমী, সিনিয়র সহসভাপতি বোরহান কাসেমী, সহসভাপতি মুফতি মারুফ কাসেমী, আল্লামা তানভীরুল হক সিরাজী, আল্লামা ইকবাল সিরাজী, মুফতি জাকারিয়া খান, মুফতি ইউসুফ ভূঁইয়া ও মাওলানা বেলাল হোসাইনসহ অনেকে।