জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন এবং তারেক রহমান দিল্লির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করেন, তাহলে এনসিপি সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও ঘোষিত ‘এক দফা’ এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসানের লক্ষ্য আংশিক অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।
তিনি দাবি করেন, পুলিশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি এখনও বিদ্যমান। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দুই বছরে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন হয়নি।
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দলটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি। তার অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘুষ ও দুর্নীতির চিত্র আগের মতোই রয়েছে।
শহীদ পরিবার ও আহতদের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের জন্য সরকারের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের মানুষ আজ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন। প্রকৃত পরিবর্তন প্রতিষ্ঠিত হলেই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা নিশ্চিত হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি দেশে ফিরলে তাকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে। এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, এ দাবির পক্ষে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা রাজপথে অবস্থান করবেন।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করেনি; বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আন্দোলন করেছে।
আলোচনা সভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এমপি, শহীদ জাবেরের মা রোকেয়া বেগম এমপিসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া এবং দেশে প্রত্যাশিত পরিবর্তন না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।