তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে একাধিক সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখনো সংসদীয় ব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশে ১৩টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সর্বশেষ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে কম বিতর্কিত। তবে এখনো দৃঢ়ভাবে বলা যায় না যে দেশের সংসদীয় ব্যবস্থা একটি সুদৃঢ় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে কাঙ্ক্ষিত বিচারব্যবস্থাও এখনো গড়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের আলোচনা বাদ দিলেও সাধারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগের কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের পরও যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা সম্ভব না হয়, তাহলে দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার গভীর সংকট নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, এত ত্যাগের পরও যদি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জিত না হয়, তাহলে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক ব্যবস্থার ভেতরে এমন কোনো মৌলিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের নতুন করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ শুধু আবেগ বা আত্মত্যাগের গল্পে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ বিশ্লেষণের আহ্বান জানান জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হয়েছে। এটি যেমন সংগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতীক, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে দেশ স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক পরিবেশের বাইরে ছিল—এ বাস্তবতাও তুলে ধরে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচর্চা কেবল শহীদদের সাহসিকতা স্মরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ভবিষ্যতে যেন জনগণকে আর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।