ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান নয়, তার পড়াশোনা ছিল ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু আগ্রহ, শেখার মানসিকতা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি যুক্ত হন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগে। আর অবদান রাখেন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদ ও ফাইটোকেমিক্যাল ডাটাবেস নির্মাণে।
ধামরাই সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এশা মনি বৃষ্টি ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেডের গবেষণা বিভাগ ডন আই ল্যাব পরিচালিত বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যালস ডাটাবেস (বিএমপিপিডি) প্রকল্পে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাস কো-অর্ডিনেটর হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হন। পরবর্তীতে একাধিক মূল্যায়ন ধাপ অতিক্রম করে সেরা ৩০ জনের মধ্যে স্থান অর্জন করেন। সেই তালিকা থেকেই তাকে বিএমপিপিডি প্রকল্পে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
প্রকল্পে তার কাজের মধ্যে ছিল ঔষধি উদ্ভিদসংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্য সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক যৌগের তথ্য সংকলন এবং যথাযথ রেফারেন্সসহ ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তুত করা। গবেষণাভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্য যাচাই ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
দলের অন্য সদস্যরা বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করলেও এশাই ছিলেন একমাত্র ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী। ফলে গবেষণার ধারণা, বৈজ্ঞানিক সাহিত্য বিশ্লেষণ এবং ডাটাবেসভিত্তিক কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তার জন্য ছিল নতুন অভিজ্ঞতা।
এশা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় শুরুতে তার মধ্যে কিছুটা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল। তবে নিয়মিত শেখা, প্রশিক্ষণ এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি সেই সংকোচ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। এই কাজের মধ্য দিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, ঔষধি উদ্ভিদের কার্যকারিতা শুধু লোকজ বিশ্বাসের বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করা রাসায়নিক যৌগ এবং গবেষণালব্ধ তথ্য।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এশা মনি বৃষ্টি বলেন, “বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী না হয়েও একটি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা দলে কাজ করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব সম্পন্ন করা এবং বাংলাদেশের প্রথম ও দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদভিত্তিক ডাটাবেস নির্মাণে অবদান রাখতে পারা আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।”
তিনি আরও বলেন, “শেখার আগ্রহ, পরিশ্রম ও ধারাবাহিক চেষ্টা থাকলে শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড কখনোই সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।”
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, এশার এই যাত্রা দেখায় যে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভিন্ন একাডেমিক পটভূমির শিক্ষার্থীরাও গবেষণাভিত্তিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যালস ডাটাবেস (BMPPD) ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেডের গবেষণা বিভাগ ডন আই ল্যাবের তৈরি একটি ওপেন-অ্যাক্সেস গবেষণা ডাটাবেস। এতে ৭০০টির বেশি ঔষধি উদ্ভিদের তথ্য, প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ ফাইটোকেমিক্যাল এন্ট্রি এবং প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০টি ইউনিক রাসায়নিক যৌগের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ওষুধ আবিষ্কার–সংশ্লিষ্ট গবেষণায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে ডাটাবেসটি তৈরি করা হয়েছে।