চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত থাকাকালে অতিরিক্ত মানুষের চাপে মঞ্চ ভেঙে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঞ্চে ওঠেন অর্থমন্ত্রী। তার সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীও মঞ্চে অবস্থান নেন। অতিরিক্ত ওজনের চাপেই মঞ্চটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
মঞ্চ ভেঙে পড়ার পরও অর্থমন্ত্রী সেখান থেকেই কয়েকজন বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। পরে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এবং চট্টগ্রাম-০৮ (বোয়ালখালী-চাঁদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা।
ঘটনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ছোট আকারের মঞ্চে অতিরিক্ত নেতা-কর্মী ওঠায় সেটি ভেঙে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং মন্ত্রী সেখান থেকেই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, মঞ্চ ভেঙে পড়লেও কেউ নিচে ছিটকে পড়েননি বা আহত হননি। ত্রাণ বিতরণ শেষে অর্থমন্ত্রী সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন।
এর আগে সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার মাইঝপাড়া মাহমুদুন নবী চৌধুরী স্কুলসংলগ্ন এলাকা এবং হাদীপাড়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন অর্থমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া বন্যা-পরবর্তী সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।