আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাধা দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন কাফি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত সপ্তাহে ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ছয় লেন সড়কের উত্তর পাশের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে নুরুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বাধা দিলে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
আবদুর রহিম বলেন, এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি সিক্সলেন সড়কের পাশে অবস্থিত স্কুলের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির মধ্য থেকে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। অথচ এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ওই জমির পেছনে আমার কেনা জমি রয়েছে। কিন্তু চলাচলের কোনো রাস্তা নেই। এজন্য আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমিটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তখন স্যার বলেন, স্কুলের জমি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিবের নামে দেওয়া হয়েছে।
পরে আমি জানতে পারি, মোবারক পঞ্চায়েতের নাতি সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানসহ ওয়ারিশরা মামলা চালিয়ে উচ্চ আদালত থেকে ওই জমির পক্ষে রায় পেয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করি এবং ওয়ারিশরা আমাকে তা বুঝিয়ে দেন। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
কাফির বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে সালাউদ্দিন নয়ন বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে এই জমির মালিক আমরা। এ পর্যন্ত চারটা রায় আমাদের পক্ষে পেয়েছি। তারা অহেতুক আমাদের হয়রানি করে। বিদ্যালয়ের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, কাফি একটি জমি কিনেছেন। একই জমির মালিকানা স্কুল এবং স্থানীয় একটি পরিবার উভয়েই দাবি করছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং এখনো চ‚ড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকে প্রশাসন নজর রাখছে।