মোঃআতেফ ভূঁইয়া গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দরাবাদ এলাকায় স্থানীয় জনতার অভিযানে ইয়াবাসহ হৃদয় মিয়া নামে এক কথিত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগী পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে হায়দরাবাদ মধ্যপাড়া নহরীরপাড় মসজিদ রোড এলাকায় আমান উল্লাহর বাড়িতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী যৌথভাবে অভিযান চালান। এ সময় হৃদয়কে আটক করা হলেও ইব্রাহীম হোসেন, আমান উল্লাহ ও শাহেনশাহ শাহীন ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরে আটক হৃদয়কে বায়তুন নূর জামে মসজিদে নেওয়া হয়। জুমার নামাজ শেষে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ পূবাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হায়দরাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। নহরীরপাড়, মাজার রোড ও তছুর ভিটাসহ কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা চলে। এর ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়া কয়েকজন কথিত মাদক কারবারি স্থানীয়দের বাড়িতে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হৃদয় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালালে পুরো সিন্ডিকেট উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পূবাইল থানার ডিউটি অফিসার শামসুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ হৃদয়কে থানায় নেওয়া হয়েছে।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, মাদক কারবারীদের হুমকি এবং চিহ্নিত মাদকস্পটগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”