মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ ও ‘বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ সময় তিনি ভোটদান ব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যদিও বিষয়টি তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি।
ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, চীন অবৈধভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তার দাবি, এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখেছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের জবাব দেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করা এসব দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার। বহু আগেই প্রমাণ হয়েছে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
লিন জিয়ান আরও বলেন, “চীনের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কোনো আগ্রহ নেই এবং চীন কখনোই তাতে হস্তক্ষেপ করেনি।” একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় খুব ভালোভাবেই জানে, কোন দেশ নিয়মিত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশটির উচিত নিজেদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা, ভিত্তিহীন অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করা এবং নির্বাচনী ইস্যুতে চীনকে টেনে না এনে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে আসছেন। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নির্বাচন-পরবর্তী ৬০টির বেশি মামলায় আদালত ফল পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি। এছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পুনর্গণনা, নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তেও ফলাফল পরিবর্তনের মতো কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?