বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

ফ্যাসিস্টের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না: রিজভী

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী […]

ফ্যাসিস্টের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না: রিজভী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিস্টের পতন হলে পরে তাকে ফেরত আনা যায় না। যে রক্তের আলপনা সে এঁকেছে, সেই রক্তের আলপনা মাড়িয়ে আবার সে এ দেশে রাজনীতি করবে—এটা কী করে সম্ভব? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে। শেখ হাসিনা যদি এ দেশে ফেরত এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া খানের যে উত্তরসূরি আছে, টিক্কা খানের যে উত্তরসূরি আছে, তাদেরও আনতে হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায় কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ইতিহাসে হিটলার কিংবা মুসোলিনির মতো শাসকদের পতনের পর তাঁদের রাজনৈতিক ধারাও আর ফিরে আসতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ রক্তপাত ও দমন-পীড়নের রাজনীতি মেনে নেয় না।

ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করাই তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন কেউ কেউ দেখি টক শোতে একটু একটু করে গলার আওয়াজ করছে, এই শেখ হাসিনার আমলে এই হয়েছে, সেই হয়েছে এত উন্নতি হয়েছে। কেন একটা বড় দল তাকে কেন ইয়ে (নিষিদ্ধ) দেওয়া হবে, রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না, শেখ হাসিনার চলে আসতে হবে, শেখ হাসিনা যদি এতই পাওয়ারফুল হন, তে পালালেন কেন?’

এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘মইন ইউ আহমেদ, ফখরুদ্দীন আহমদ সাহেব কত চেষ্টা করেছে, থ্রেট করেছে, হুমকি দিয়েছে, নিজে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন তবুও শেখ হাসিনার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, ওনার অন্যায় আবদারের কাছে মাথা নত করেননি বেগম জিয়া। আপনি তো সেই দৃষ্টান্ত রাখেননি।’

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আত্মত্যাগের যে শিক্ষা রয়েছে, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘গোটা দেশের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে, আপনারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করলেন ’৭১ সালে। ’৮৬ সালে আপনারা হাসিনার সঙ্গে গিয়ে এরশাদের অধীনে নির্বাচন করলেন। অথচ অঙ্গীকার ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের। ৫ আগস্টের পরে বলে দিলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেব। আবার বললেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব।’

রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী বারবার নিজেরাই সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে দলটির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আপনারা (জামায়াত) সম্পর্ক গড়ে তুলুন, আপত্তি নেই। কিন্তু বলুন, আপনারা কি আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন? আমাদের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন? আমাদের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করেন?’

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবেই।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪