মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নাড়ির টানে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এতে মুন্সিগঞ্জের সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায় তেমন কোনো বড় যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
চিরচেনা ভোগান্তির পরিবর্তে এবার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রীদের যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও দীর্ঘক্ষণ যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়নি। ফলে স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন ঘরমুখো মানুষ।
পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, গত ২৫ মে রাত ১২টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন।
এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাওয়া টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে ৪৫ দিনের বিশেষ কর্মসূচি। বর্তমানে প্রতি তিন সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল প্রদান করে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি পৃথক লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
যানজট নিরসনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘বাস বে’। এখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি বাস দাঁড়াতে পারায় টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।
এদিকে এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।
যাত্রীরা জানান, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবার পদ্মা সেতু পার হতে তাদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। বিশেষ করে টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষা না থাকায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, “মহাসড়ক এবং গরুর হাট মিলিয়ে আমাদের বেশ কয়েকটি টিমে ৭১৫ জন সদস্য কাজ করছে। আমরা বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। হাইওয়েতে একাধিক রেকার রাখা হয়েছে।
কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে মহাসড়কে নির্বিঘ্নে যান চলাচল করছে। মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারে, সে জন্য আমরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছি।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেতু কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এবারের ঈদযাত্রা দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক হবে।