রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

মুসলিম বিশ্বের প্রতি লারিজানির খোলা চিঠি- ‘শত্রু চিনতে ভুল করবেন না’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘাত শুধু সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং আদর্শিক লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান। এই চিঠিকে অনেকেই আঞ্চলিক সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার […]

নিউজ ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৪২

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘাত শুধু সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং আদর্শিক লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান। এই চিঠিকে অনেকেই আঞ্চলিক সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বলেও মনে করছেন।রাজনৈতিক সংবাদ

এই খোলা চিঠিটি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ও সচিব আলী লারিজানি। আরবি ভাষায় লেখা এই বার্তায় তিনি সরাসরি মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—বর্তমান সংঘাতে যেন তারা ইরানের পাশে দাঁড়ায়। তার মতে, এই যুদ্ধ কেবল একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং বৃহত্তর একটি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক।

চিঠিতে আলী লারিজানি বর্তমান সংঘাতকে দুই পক্ষের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, একদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, আর অন্যদিকে রয়েছে ‘প্রতিরোধী শক্তি’। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনওই কারও প্রতি বিশ্বস্ত নয় এবং ইসরায়েল মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি স্থায়ী হুমকি।

তিনি মুসলিম দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, “এক মুহূর্তের জন্য থামুন এবং এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান সবসময় মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছে এবং কখনও তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করেনি।

লারিজানি তার চিঠিতে ইরানকে ‘মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের’ শিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানকে দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে এই যুদ্ধ শুরু করেছে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের এমন সংকটময় সময়ে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ দেশ সীমিত বা নীরব অবস্থান নিয়েছে, যা তেহরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে লারিজানি স্পষ্ট করে জানান যে, ইরান সহজে এই সংঘাতে পিছু হটবে না। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ‘আগ্রাসী শক্তির জন্যই ক্ষতিকর হবে’। তার মতে, ইরানের জনগণ সাহসী এবং তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ মনোবল জোরদার করতে চেয়েছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি দৃঢ় বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বর্তমান যুদ্ধের আগে কূটনৈতিক পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলে। এই সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।

তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এই ব্যর্থতাই পরবর্তী সামরিক সংঘাতের পথ আরও প্রশস্ত করে দেয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংলাপ ভেঙে যাওয়ার ঠিক পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময় ইসরায়েলও নিজেদের অভিযান শুরু করে, যার নাম ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’।

এই দুই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এতে করে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।

এই হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। বিশেষ করে সউদী আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানের ভেতরে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর একাধিক দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ তাদের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে একদিকে যেমন ইরান মুসলিম বিশ্বের সমর্থন চাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক দেশই নিজেদের নিরাপত্তার কারণে ইরানের কর্মকাণ্ড থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। এই দ্বৈত অবস্থান পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—এই সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে। ইরানের এই খোলা চিঠি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে তারা আঞ্চলিক সমর্থন জোগাড় করতে চাইছে। তবে বাস্তবতা হলো, মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশই সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আলী লারিজানির এই খোলা চিঠি শুধু একটি আহ্বান নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট, বিভাজন এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যতের একটি প্রতিচ্ছবি, যেখানে যুদ্ধ ও কূটনীতির লড়াই একসঙ্গে চলতে থাকে। তথ্যসূত্র : সিএনএন

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৬