ঢাকা-৮ আসনে ভোটারদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে এবং পোলিং এজেন্টদের প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই কেন্দ্র ছাড়তে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, রেজাল্ট শিট ছাড়া কোনো পোলিং এজেন্ট যেন ওই এলাকা থেকে বের হতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,
যদি বলা হয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে গণনা হবে, সেটি কোনোভাবেই মানা যাবে না। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে এবং ভোটাধিকার রক্ষায় সংগ্রামে প্রস্তুত। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু নব্য প্রার্থীর কথাবার্তায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে কারসাজির চেষ্টা হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলিস্তানের হল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তার বিরুদ্ধে একটু কথা বললেই প্রচারণা চালানো যাবে, তার জন্য বহু ভিন্ন পথ আছে। দান-খয়রাত করা যেতে পারে, ভালোভাবে কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু গালিগালাজ ও অসভ্য ভাষা ব্যবহার করে নিজেকে জাহির করা উচিত নয়।
মির্জা আব্বাস বলেন,
“জনগণ জানে চুলার মুখে দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না। চুলার মুখ দিয়ে ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না।”
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করবে না। এ ধরনের কুৎসা রটনায় তিনি বিস্মিত বলেও জানান।
তিনি বলেন, যারা তার বিরুদ্ধে কটু ভাষায় কথা বলছেন, তারা অনেকেই বয়সে পরিণত ও পরিবারের দায়িত্বশীল মানুষ। তাদের প্রতিটি কথার রেকর্ড থাকবে এবং ভবিষ্যতে সেই রেকর্ড শুনে নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে দায়িত্বশীল ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সকাল-সন্ধ্যা জামায়াতে ইসলামের একটি জুনিয়র গ্রুপ বিএনপিকে নিয়ে অশালীন ও নোংরা বক্তব্য দিচ্ছে। জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও দেশের কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা সম্পূর্ণ লাগামহীন।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা আব্বাস বলেন,
তিনি কখনো অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেননি। যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি সাহস থাকে, তাহলে বায়তুল মোকাররমের সামনে তার নামে শালিস বসানো হোক। তিনি বলেন, “আমি চুরিচামারি করে বড় হইনি। গায়ে খেটে বড় হয়েছি এবং নিজ হাতে কাজ করেছি।”