বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

আ.লীগ নেতাকর্মীদের হাসিনার নির্দেশ,নিউইয়র্ক থেকে কেউ যেন ‘অক্ষত ফিরতে না পারে’

যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের সরাসরি আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতে পালিয়ে থাকা পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হাসিনা এ নির্দেশনা দেন। দলের নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, কেউ যেন অক্ষত ফিরতে না পারে। হাসিনার নির্দেশনার পর বাংলাদেশে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা ও […]

আ.লীগ নেতাকর্মীদের হাসিনার নির্দেশ,নিউইয়র্ক থেকে কেউ যেন ‘অক্ষত ফিরতে না পারে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২

যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের সরাসরি আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতে পালিয়ে থাকা পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হাসিনা এ নির্দেশনা দেন। দলের নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, কেউ যেন অক্ষত ফিরতে না পারে।

হাসিনার নির্দেশনার পর বাংলাদেশে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতাদের হেনস্তার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ব্যাপক উপস্থিতি ঘটানোর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এদিকে গত বুধবার রাতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হোটেল লবিতে গিয়ে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন। আখতার এটিসহ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় একটি থানায় মামলা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ‘বিশেষ সুবিধা’ পেতে মানবাধিকারকর্মী পরিচয়ের আড়ালে ইতোমধ্যে বিদেশি নাগরিক ভাড়া করেছে। বিষয়টি নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল কার্যালয় ইতোমধ্যে অবহিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এদিন জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে পুস্তিকা বিতরণ করবে। অন্যদিকে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার সব ভিডিও ফুটেজ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা দিয়েছে কনসাল জেনারেল কার্যালয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়ে কনসাল জেনারেল কার্যালয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে জানিয়েছে।

‘একটাও যাতে অক্ষত ফিরতে না পারে’

স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুর ১টায় জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। ওই সময় তার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। বর্তমানে তারা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সন্নিকটে হোটেল আল হায়াতে অবস্থান করছেন।

এদিন জাতিসংঘের সামনে ব্যাপক উপস্থিতি ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। তাদের সঙ্গে রয়েছে জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া দলের নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে আটটি ঘরোয়া বৈঠক করে এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও সভায় অংশ নেওয়া কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি আমার দেশকে জানান, প্রতিটি সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতে পালিয়ে থাকা হাসিনা ও তার ছেলে মার্কিন নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়। একটি সভায় হাসিনা প্রধান উপদেষ্টাসহ তার সফরসঙ্গী রাজনীতিকদের আক্রমণ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ওরা কেউ যাতে অক্ষত যেতে না পারে; তোমরা সব ব্যবস্থা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মাধ্যমে অর্থের জোগান দিচ্ছেন জয়। জয় কিছুদিন আগে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেন।

জেকসন হাইটস এলাকায় দুদিন আগে হওয়া একটি সভায় উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক কর্মী আমার দেশকে জানান, বৈঠক শুরুর কিছু সময় পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ভিডিও কল করেন শেখ হাসিনার কাছে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের সফলভাবে হেনস্তা করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ দেন তিনি। সামনের কর্মসূচিগুলোও তিনি ওইদিনের মতোই সফল করতে বলেন। এ সময় হাসিনা বলেন, কোনোভাবেই কেউ যাতে অক্ষত ফিরতে না পারে, সে ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

আওয়ামী লীগের ওই কর্মী আরো জানান, সভাটিতে সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আপত্তি করে তিনি বলেন, আইন ভাঙা যাবে না। আইনের ভেতরে থেকেই সর্বোচ্চটা করতে হবে। এ পর্যায়ে শেখ হাসিনা চিৎকার ও চেঁচামেচি করে ওঠেন। তিনি বলেন, ওদের (অন্তর্বর্তী সরকার) জন্য আবার দরদ কীসের? ওরা আইন দেখে আমাদের মারছে নাকি? ওরা তো আমাদের কিছুই আর বাকি রাখেনি। ওদের একটাকেও আমি ছাড়ব না। ওই সময় শেখ হাসিনার বক্তব্য ও আচরণ অসংলগ্ন ছিল।

বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎকণ্ঠা

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মহড়া দিচ্ছেন আ.লীগ নেতাকর্মীরা। এতে অস্বস্তি বোধ করছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন। জেকসন হাইটস, জামেইকা ও এলমার্স্ট এলাকায় বসবাসকারী কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। আলাপের সময় তারা এ অস্বস্তি বোধ করার কথা জানান।

জামেইকার অধিবাসী ওয়ালিউল্লাহ পাটোয়ারী নিউ ইয়র্কে ফেডারেল সরকারের একজন কর্মকর্তা। আমার দেশকে তিনি বলেন, এখানে জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং এখন চাকরি করছি। আমার পূর্বপুরুষ, মানে বাবা-মা ও দাদা-দাদির দেশ বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের যে কোনো ঘটনা বা সংবাদের প্রতি একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকে। ভালো কোনো খবর খুব কমই কানে আসে। যা শুনি, সবই হতাশাজনক।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ঘিরে নিউ ইয়র্কে ব্যাপক আয়োজন থাকে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এখানে আসেন। এখানে বহু জাতি ও সংস্কৃতির লোক বসবাস করছে। কোনো দেশের নাগরিক এমন বিক্ষোভ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না, যেটা বাংলাদেশের নাগরিকরা করে থাকে। বাংলাদেশের বিষয়ে প্রতি বছরই নিউইয়র্ক প্রশাসনকে বাড়তি মনোযোগ দিতে হয়। এটা আমার জন্য লজ্জা ও বেদনার।

এলমার্স্ট এলাকার অধিবাসী লোকমান হোসেন বলেন, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা আমাদের অন্য দেশের নাগরিকদের কাছে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

হামলার ভিডিও ফুটেজ স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা

জন এফকে বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নাজেহাল ও গালিগালাজ এবং এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কনসাল জেনারেলকে ওইদিনই নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টকে বিষয়টি জানানোর পর তারা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল কার্যালয়ে সব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব আইন ও পদ্ধতি অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে কনসাল জেনারেলকে জানিয়েছে।

কনসাল জেনারেল কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, আমরা জানতে পেরেছি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকদেরও ভাড়া করেছে। তারাও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবে। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারের বিরুদ্ধে এবং জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে পুস্তিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। এগুলো জাতিসংঘের সামনে বিতরণ করবে তারা।

আ.লীগের সন্ত্রাস মোকাবিলায় বহুধাবিভক্ত বিএনপি

যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির অবস্থান ও সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সাত নেতার সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। সবার অভিন্ন কথা হচ্ছে, গত ১০ বছরেও এখানে বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বর্তমানে এখানে বিএনপি কমপক্ষে চারটি গ্রুপে বিভক্ত। যাদের বিরোধ মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা বরং বিভিন্ন উপদল তৈরি করে বিরোধ আরো তীব্র করছে। যার প্রমাণ মিলেছে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে না পারার মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠনকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এমন এক ব্যক্তিকে, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। তারা জানান, ওই নেতা বাস করেন যুক্তরাজ্যে। এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার এক নেতা বলেন, আমাদের দলের মূল হলো বাংলাদেশে। সেখান থেকে স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্য দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে বাঁচাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির সোনালি অতীত ছিল। এখন অবস্থা একেবারে বাজে।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭২৮৯

রাজনীতি

১৫ বছর পর খালাস পেলেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস-দিনারসহ ৩৮ জন

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক। মানবপাচার […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ মে ২০২৬, ১৪:৫০

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক।

মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ খালাসের রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্ত অন্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ। রায় ঘোষণার সময় আসামি পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত এবং অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেসের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও অন্য একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে বাসের ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান চিত্রনায়িকা শাবনুরের পিতা হিসেবে পরিচয়দানকারী ৭০ বছরের বৃদ্ধ কাজী নাছির।

ঘটনার পর পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করলেও ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে ছবি ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন। তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত জানিয়েছিলেন, নিহতের জুতা, ঘড়ি ও বেল্ট দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওই ঘটনার রাতে এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং পরিবহণ ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান দ্রুতবিচার আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বর্তমানে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও দিনার ছাড়াও কোহিনুর, আশিক, মকছুদ আহমদ, রাসেল, তোরন, সামছুল ইসলাম টিটু ও এমএ মান্নানসহ মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত ইলিয়াস আলী ও দিনারসহ ৩৮ জন আসামিকে এই দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল যা আজ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিখোঁজ ইলিয়াস আলী ও দিনারের সন্ধান না মিললেও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নাম এ মামলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ল। বর্তমানে রায় পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭২৮৯
বিষয়ঃ

রাজনীতি

স্বামী সংসদে যেতে না পারলেও যাচ্ছেন স্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী […]

নিউজ ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট।

তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মুন্নী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি এবং দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও কর্মরত। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে দলের জন্য তার অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মতিউর রহমানও জানিয়েছেন, জামায়াত যোগ্যতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেই প্রার্থী নির্বাচন করে। সাবিকুন্নাহার মুন্নী আশা প্রকাশ করেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দেশের অবহেলিত নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করবেন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৬৭

রাজনীতি

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ […]

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

নিউজ ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক মহলে এই মন্ত্রিসভা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও চূড়ান্ত তালিকাটি কেবল হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার মন্ত্রিসভায় অনেক প্রবীণ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যকে দেখা না-ও যেতে পারে। তারেক রহমান মূলত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশ গড়ার পরিকল্পনা করছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা শরিক দলগুলোর একাধিক নেতারও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি এবং সমসংখ্যক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুরুতে মন্ত্রিসভার আকার ৪০ জনের কাছাকাছি হতে পারে।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাসের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্বের চেয়ে সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞদের দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া তরুণ ও মেধাবী মুখ হিসেবে সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মাহদী আমিনের মতো নেতাদের টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। শরিকদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।

নবনির্বাচিত এই সরকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। তারেক রহমান ইতিপূর্বে দলীয় ফোরামে জানিয়েছেন যে, মন্ত্রীরা সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। এ লক্ষ্যে সংসদ উপনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০০১ সালের পর এবারই প্রথম বিএনপি একক শক্তিতে সরকার গঠন করলেও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ বাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়েই তিন দশক পর বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এক নতুন সরকার।

সূত্র: মানবজমিন

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৬৭