পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বেতাগী গ্রাম থেকে সিথী রানী (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সিথী রানী ওই গ্রামের নিত্য শিকদারের মেয়ে। তিনি দশমিনা সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার প্রতিদিনের মতো পড়াশোনা শেষে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে যান সিথী। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তার কক্ষ থেকে বিকট শব্দ শুনে বাবা নিত্য শিকদার সেখানে ছুটে যান। ঘরে প্রবেশ করে তিনি আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়েকে ঝুলতে দেখেন। তার চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের বাবা নিত্য শিকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আর কয়েক দিন পরই আমার মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা ছিল। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সে পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটবে, কখনো ভাবিনি। কেন এমন হলো, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।”
সিথী রানীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পরীক্ষার হলে বসার প্রস্তুতি নেওয়া এক শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।