বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হননি, অন্যদিকে শেখ হাসিনা পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর নীলক্ষেতে আইসিএমএ ভবন অডিটোরিয়ামে ‘মহীয়সী বেগম খালেদা জিয়া—ঐক্য, সংহতি ও আলোকিত দ্বীপ’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত একটি কারাগারে বন্দি করে রেখেছিলেন। সেখানে তার যথাযথ চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও তার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। বিপরীতে শেখ হাসিনা পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
রাজনীতিতে সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, সংস্কৃতি রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি। কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ না থাকলে সেই দলের নেতাদের মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। একজন রাজনীতিবিদের ছবি, গান, কবিতা ও চিত্রকলার মতো সৃজনশীল বিষয়গুলোর প্রতি আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। এসব গুণ না থাকলে কেউ হয়তো শক্তিমান বা প্রভাবশালী হতে পারেন, কিন্তু ভালো রাজনীতিবিদ হওয়া সম্ভব নয়।
খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের ব্যাপ্তি অল্প সময়ে তুলে ধরা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বেড়ে ওঠা, নেতৃত্ব, শাসনকাল এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি তার ওপর চালানো নিপীড়ন-নির্যাতনের ইতিহাসও বিস্তৃত।
রিজভী মার্কিন লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও সবসময় পরাজিত হয় না। ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাদের জীবন ও সংগ্রাম প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। খালেদা জিয়াকে তিনি এমনই একজন ক্ষণজন্মা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক অর্জন ও সংগ্রাম ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার রাজনৈতিক জীবন থেকে অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়।