বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকট নিয়ে কর্মসূচিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হঠকারিতা আখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর নিপীড়নের বয়ান তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে বলা হচ্ছে হঠকারিতা। বলা হচ্ছে, আগের মত বাস ভাঙচুর, রাস্তায় বিক্ষোভ চাই না।’ কিন্তু রাস্তায় বসে বিক্ষোভ বৈধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পদ্ধতি।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (ডিজেএ) আয়োজিত ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় চিফহুইপ নাহিদ ইসলাম।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী এনসিপির উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে—গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে; এগুলো হঠকারিতা।…রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই।’
এর জবাবে নাহিদ বলেছেন, ‘কালকে যখন আমি রাস্তায় নামব প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে, তখন বলা হবে আমি বাস ভাঙচুরের জন্য নামছি এবং আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে, মামলা দেওয়া হবে। এই ন্যারেটিভ (বয়ান) সরকারের জায়গা থেকে তৈরি করা হচ্ছে।’
চলমান জ্বালানিসংকটের প্রতিবাদে গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ীতে সড়ক অবরোধ করে গণসমাবেশ করে এনসিপি। সেখানে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হারিকেন প্রদর্শন করেন নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির নেতারা।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে এনসিপির আহ্বায়ক সোমবার বলেন, গ্যাস বা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিকে সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে বলা হচ্ছে হঠকারিতা। আমরা কোন দিকে যাচ্ছি, তা সবার বোঝা উচিত।
বিরোধী দল সংসদ ও রাজপথে কথা বলবে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও আন্দোলনের চরিত্র। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অহিংসভাবে উপায়ে যেকোনো কথা প্রকাশ করতে পারি। সেই জায়গায় থেকে মনে হচ্ছে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। এখানে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের কাছ থেকে আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকা চাই।
মতপ্রকাশের বর্তমান স্বাধীনতা কতদিন থাকবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাহিদ বলেছেন, ধীরে ধীরে গণতন্ত্র ও কথা বলার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। সংকোচন ঠেকাতে হবে সবাই মিলেই। সাংবাদিকেরা সাংবাদিকদের ভূমিকাটা পালন করলেই হয়। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটা প্রচার করলেই যথেষ্ট। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করব।
বিএনপি ক্ষমতায় এসে অনেক সাংবাদিককে গণমাধ্যম থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ বলেন, এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্যের পর তাঁকে নিয়ে একটি গণমাধ্যমের ৪৮ ঘণ্টায় ২০-৩০টি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এটা কোন ধরনের সাংবাদিকতা? ছাত্রনেতাদের চরিত্রহননের চেষ্টা বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম থেকে করা হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের পক্ষে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, অভ্যুত্থানের সময় নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সাংবাদিকদের অনেকে কাজ করে গেছেন।
পেশার ঊর্ধ্বে গিয়েই দেশপ্রেম, মানবিকতা ও বিবেকবোধের জায়গা থেকে সাংবাদিকদের অনেকে ভূমিকা পালন করেছেন। সাংবাদিকদের সক্রিয়তা না থাকলে আন্দোলন সফল হতো না। সাংবাদিকদের অনেকে প্রকাশ্যে, পরোক্ষভাবে বা গোপনে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।
তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। অভ্যুত্থানের পর হয়তো আপনাদের সঙ্গে বসা উচিত ছিল, অনেক কিছু করা উচিত ছিল। সেটা করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করি।
আলোচনা সভায় জুলাইয়ের শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা শামসি আরা জামান সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানান।
সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসসচিব শফিকুল আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।
উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া প্রমুখ।