বাংলাদেশ আর কোনো দেশের অধীনে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেব না। এই দেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় মোকাবিলা করতে হবে। আলোচনা ও মতপার্থক্য থাকবে, তবে সম্পর্ক হতে হবে সমানে সমান।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক চাইলে বাংলাদেশও তা চায়। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে সত্যিকারের ভালো প্রতিবেশী হতে হলে উভয় পক্ষকেই সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে।
একাত্তর-পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষীবাহিনী গঠনের মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠস্বর দমন করা হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও সেসব ঘটনার বিচার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার বছরেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও প্রকাশ্যে আসেনি বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই পালায়; সৎ মানুষ পালায় না। কেউ দেশ ও জাতিকে ভালোবাসলে দেশে থেকে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন। অপরাধ করলে শাস্তি নিতেন, আর নির্দোষ হলে তা প্রমাণ করতেন।
২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার কার্যক্রম যেভাবে এগিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই গতি আর দেখা যাচ্ছে না।
দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এর প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই শিল্প খাত রক্ষায় সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে পাস হওয়া কয়েকটি বিল নিয়েও আপত্তির কথা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিনটি বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। তার অভিযোগ, এসব আইন জনগণের পরিবর্তে সরকারকে বেশি সুবিধা দেবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়েও আপত্তি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, আইনটি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী। রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বাংলাদেশ আর কোনো দেশের অধীনে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেব না। এই দেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় মোকাবিলা করতে হবে। আলোচনা ও মতপার্থক্য থাকবে, তবে সম্পর্ক হতে হবে সমানে সমান।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক চাইলে বাংলাদেশও তা চায়। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে সত্যিকারের ভালো প্রতিবেশী হতে হলে উভয় পক্ষকেই সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে।
একাত্তর-পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষীবাহিনী গঠনের মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠস্বর দমন করা হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও সেসব ঘটনার বিচার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার বছরেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও প্রকাশ্যে আসেনি বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধী, চোর ও লুটেরারাই পালায়; সৎ মানুষ পালায় না। কেউ দেশ ও জাতিকে ভালোবাসলে দেশে থেকে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন। অপরাধ করলে শাস্তি নিতেন, আর নির্দোষ হলে তা প্রমাণ করতেন।
২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার কার্যক্রম যেভাবে এগিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই গতি আর দেখা যাচ্ছে না।
দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এর প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই শিল্প খাত রক্ষায় সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে পাস হওয়া কয়েকটি বিল নিয়েও আপত্তির কথা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিনটি বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। তার অভিযোগ, এসব আইন জনগণের পরিবর্তে সরকারকে বেশি সুবিধা দেবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়েও আপত্তি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, আইনটি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী। রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।