আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় প্রধান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
সমাবেশে সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভালোয় ভালোয় আমাদের দাবি মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে এ দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, গুলি খেয়ে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে মুক্তির পথে কীভাবে এগোতে হয়, তা শিখে নিয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার একসময় নিপীড়নের শিকার হলেও এখন আওয়ামী লীগের শাসনামলের পথ অনুসরণ করছে।
জামায়াত আমির বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করব না, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করব না এবং দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করব না।”
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আন্দোলন সফল হবে। বাংলাদেশে আর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ দেখতে চায় না জনগণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও দুর্নীতি বেড়েছে। তার অভিযোগ, সরকার দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “জনগণ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। যদি আপনারাও ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবে।”
আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আন্দোলনের ডাক আসবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে উন্নত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরে বলেন, “সমুদ্রের ঢেউ দেখতে বঙ্গোপসাগরে যেতে হয় না, ঢাকা থেকে সিলেটের সড়কে চললেই তা বোঝা যায়।” দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ করে জনগণের দুর্ভোগ কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুমিনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।