বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

পরাজিত শক্তির আস্ফালন জুলাইয়ের ঐক্যকে আরো দৃঢ় করবে: মঞ্জু

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, পরাজিত শক্তির আস্ফালন থাকাই স্বাভাবিক। তবে তাদের এসব অপচেষ্টা জুলাইপন্থি শক্তির ঐক্যকে আরো সুসংহত করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জীবনপণ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় […]

পরাজিত শক্তির আস্ফালন জুলাইয়ের ঐক্যকে আরো দৃঢ় করবে: মঞ্জু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, পরাজিত শক্তির আস্ফালন থাকাই স্বাভাবিক। তবে তাদের এসব অপচেষ্টা জুলাইপন্থি শক্তির ঐক্যকে আরো সুসংহত করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।

সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জীবনপণ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরব। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে হেয় করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

যারা আজ জুলাইকে খাটো করার চেষ্টা করছে, তাদের অতীত অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা বরাবরই জুলাই বিরোধী শক্তির অংশ ছিল। অথচ আবরার ফাহাদ হত্যা, বিশ্বজিৎ হত্যা কিংবা ধারাবাহিক ধর্ষণের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে তারা কখনোই সোচ্চার ছিল না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। তারা ভুলে গেছে, প্রায় তিন শতাধিক সংসদীয় আসন নিয়ে ক্ষমতায় থাকার পরেও জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিষেধক।

মঞ্জু আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা উঠলেই এবি পার্টির নাম স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। এই অবস্থান কাউকে দিয়ে অর্জন করা হয়নি; অসীম ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তা অর্জিত হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এবি পার্টি নিজেদের সামর্থ্যেরও বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। সার্বক্ষণিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল, কারফিউ ভেঙে মিছিল হয়েছে, নেতাকর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আন্দোলন সফল না হলে এবি পার্টির কার্যালয় হয়ত চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত এবং দলের নেতৃত্বের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই এবি পার্টি বিশ্বাস করেছে, জনগণই আন্দোলনের মূল শক্তি। আমরা বলেছিলাম, জনগণই রাজপথে নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শূন্য থেকে গড়ে ওঠা একটি অর্গানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে এবি পার্টি শুরু থেকেই ঝুঁকি নিয়েই পথচলা শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অনেক দল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে বিভক্তি ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। এবি পার্টি মধ্যপন্থার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা ধর্মীয় দল নই, তবে ধর্মভিত্তিক সব দলের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।

আমরা ক্ষমতাসীন দলও নই, কিন্তু রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখি। এখন এবি পার্টির রাজনীতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে গণভিত্তিক ও ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান বলেন, এবি পার্টির রাজনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা রাজপথে ছিলাম। ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও আমরা একইভাবে প্রস্তুত থাকব।

যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করে যুব পার্টিকে শক্তিশালী করা হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার

সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব পার্টির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান ইমতু, সদস্যসচিব ইশরাত জাহান লিজা, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সাবেরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৪

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫