বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জব্দকৃত সকল সম্পদ প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বেনজীর আহমেদের বিভিন্ন ফ্ল্যাট থেকে জব্দকৃত মালামাল পর্যায়ক্রমে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের গুলশানের র্যাংকন আইকন টাওয়ারের ১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ ও ১৩/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে জব্দ করা পচনশীল মালামাল, ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত কাপড়-চোপড়, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র এবং রান্নাঘরের সামগ্রী বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিলামযোগ্য মালামালের আলামত হিসেবে প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করা হবে এবং অবশিষ্ট মালামাল জনস্বার্থে ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুদক তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যারা বর্তমানে মালামাল হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করছে।
দুদক আরও জানায়, এর আগে এসব মালামাল প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সে লক্ষ্যে একটি নিলাম কমিটিও গঠন করা হয়। তবে কমিশনের ২৫/২০২৫ নম্বর সভায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। সভায় আলোচনায় উঠে আসে—জনবহুল আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্য নিলাম আয়োজন করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য সামগ্রীর তালিকা প্রণয়ন এবং দীর্ঘ নিলাম প্রক্রিয়ায় অনেক মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে নিলামের পরিবর্তে মালামাল ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদালত দুদকের এ আবেদন মঞ্জুর করে রিসিভার ও দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের আগেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান বেনজীর আহমেদ। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ স্পেনে অবস্থান করছেন।