সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এই সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার একটি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে আজ দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার পাঁচ কারণ দেখিয়ে দুই আসামির জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বেলা তিনটার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের জোরালো আবেদন জানান এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিকালে কাঠগড়ায় আসামিদের বেশ কিছুটা স্বাভাবিক ও নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখা যায়। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছিল।