অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হবে সম্পূর্ণ উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক। বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, এ নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচনকালীন সব দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিকে এগোচ্ছে। আমরা চাই, মানুষ যেন ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং কোনো ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই তাদের মত প্রকাশ করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। সুষ্ঠু প্রচারণা, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা এবং জনমতের প্রতি সম্মান—এই তিনটি নীতিকে সামনে রেখে সরকার নির্বাচন পরিচালনা করবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ খুলে যাচ্ছে। তিনি এটিকে দেশে গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। “এই গণভোট জাতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রমাণ,” যোগ করেন ইউনূস।
এসময় তিনি আগাম নির্বাচনী উত্তাপ, সামাজিক বিভাজন ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সফল করতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার প্রত্যাশা আরও জোরালো করেছে।