উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বিমান বাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে কখনোই আপস করে না।”
তিনি জানান, বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানটি পুরোনো নয়। “যুদ্ধবিমানের একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র থাকে, প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত। আমরা প্রতিটি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে করি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই সংগ্রহ করি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে। প্রশিক্ষণের সময় পাইলট সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন জনবসতিহীন এলাকায় নামাতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হননি। বিমানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ইজেকশন বিলম্বিত হয়, ফলে পাইলট তৌকির ইসলাম শহীদ হন।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টারে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সময় লাগবে। এটি একটি সিঙ্গেল ইঞ্জিন বিমান—যান্ত্রিক ত্রুটি, পাখির আঘাত বা অন্য কারণ থাকতে পারে, তবে তদন্ত ছাড়া কিছু বলা ঠিক নয়।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “প্রতিটি তথ্য আইএসপিআর সরবরাহ করছে, গুজবে কান দেবেন না।”
প্রশিক্ষণ কেন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হয়—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এয়ারবেজ কুর্মিটোলা আমাদের প্রধান বেজ, আশপাশে মানুষ থাকলেও এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরায়ন বেড়েছে, কিন্তু আমরা নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্ক।”
তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তিতেও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে, তাই প্রস্তুতি ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।