নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো তৈরি করা হলো জুলাই শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ। ১৪ জুলাই ২০২৫, সোমবার, হাজীগঞ্জ নতুন রাস্তা সড়ক সংলগ্ন এলাকায় এই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়, যা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে উন্মোচিত হয়েছে।
এ অনুষ্ঠানে, একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য ছিল, যেখানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের মঞ্চে বিশেষভাবে বসানো হয়, এবং তাদের নিচে বসেন অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা। তারা শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন পাঁচ উপদেষ্টা—আদিলুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, এবং ড. আসিফ নজরুল। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তারা শহীদদের স্মরণ করেন এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অনুষ্ঠানে বলেন, “নারায়ণগঞ্জে ৫৬ জন শহীদ হয়েছে, এবং তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজ আমরা একটি স্বৈরাচারবিরোধী, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।” তিনি আরো বলেন, “তাদের ত্যাগের ফলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এবং শহীদদের প্রতি এই সম্মান দেখিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপন করা হচ্ছে।”
এই স্মৃতিস্তম্ভটি ২১ জন শহীদের নামে নির্মিত হয়েছে। শহীদদের মধ্যে রয়েছে রিয়া গোপ, মো. রোমান, আরমান মোল্লা, মো. ইরফান ভূইয়া, মো. তুহিন, এবং আরও অনেকে, যারা জুলাই আন্দোলনে শহীদ হন।
অনুষ্ঠানে শহীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজন, আদিলের মা, তার সন্তানসহ সকল শহীদদের স্মৃতিচারণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাদের কবর সংরক্ষণের দাবি জানান।
এছাড়াও, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে, এবং শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আমরা অনুরোধ করছি।”
এ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন পর, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই স্মৃতিস্তম্ভটির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো, যেখানে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।
এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা পরবর্তী প্রজন্মকে দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে।