সেনাবাহিনীর অভিযানে রাজধানীর রায়ের বাজার এলাকা থেকে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী এজাজ ওরফে হেজাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১০ মার্চ) পরিচালিত বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও কলাবাগানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভয় ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এজাজ। সে তার বাহিনী দিয়ে এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করত। এর আগে, একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গত বছরের ১৫ আগস্ট জামিনে মুক্তি পায়। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় তার অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এজাজের নাম উঠে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তার ত্রাস এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না।
গোয়েন্দা তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এজাজের নেতৃত্বে ১২০ থেকে ১৫০ সদস্যের একটি বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১২ থেকে ১৫টি হত্যা, চাঁদাবাজি ও অপহরণ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, এজাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, তার সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, এজাজের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস কমবে এবং তারা নির্বিঘ্নে তাদের জীবনযাপন করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এজাজ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে।