সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও ভয়ভীতির মাধ্যমে একটি নিপীড়নের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের বাক্স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশে এমন ভয়াবহ গুম ও নিপীড়নের পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি অংশ নেন।
স্পিকার বলেন, টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‘আয়না ঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
সভায় ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব: রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর তৎকালীন শাসনব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দমন-পীড়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘদিন গুম থাকার মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ‘আয়না ঘর’-এ দীর্ঘ বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় সাত মাস আটকে রেখে তার ওপর চালানো নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর দেশবাসীর কাছে ‘গুম’ শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। তিনি এসব ঘটনার কঠোর বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নিপীড়নের ঘটনাগুলোকে অমানবিক ও জঘন্য বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তার নিজ দেশ রোমানিয়ায় সাবেক শাসক নিকোলায়ে চউশেস্কুর দমনমূলক শাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের শাসনামলের কিছু বিষয়ে মিল রয়েছে। বাংলাদেশ সফর শেষে আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে এ দেশের স্বৈরাচারী শাসনামলে গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, মাধবী মারমাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।