গত ১৭ বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে ভূমির অধিকার ও নারীর প্রতি সহিংসতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, ‘রাষ্ট্র যখন সহিংস হয়ে ওঠে, তখন পরিবারেও সহিংসতা বিদ্যমান থাকে। রাষ্ট্র যখন ভয় দিয়ে চালাতে চায়, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয় এবং সেটি পরিবারের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পিতৃতান্ত্রিকতার বিভিন্ন সূচক বেড়েছে এবং এর প্রভাব নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রেও পড়েছে।
বিগত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিতুমীর বলেন, উন্নয়নের যত বয়ানই দেওয়া হোক না কেন, বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায় না। তার দাবি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার কারণে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, কোনো কোনো হিসাবে প্রায় এক কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। বিগত সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আরও এক কোটি বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিতুমীর বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার প্রতিটি জীবনচক্রে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। শৈশব, মাতৃত্বকালীন সময় থেকে শুরু করে শেষ বয়স পর্যন্ত নারীরা যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার পান, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হবে।
রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রযন্ত্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা হাসপাতালগুলো ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর আর এ ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে চায় বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিতুমীর আরও বলেন, সংবিধানে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের দিকে যেতে হবে। এর মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।