শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

তিন চাকার অটোতে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, প্রশিক্ষণহীন চালক নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই সখীপুরে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা (স্থানীয়ভাবে যা অটো নামে পরিচিত) কিনে চালানো শুরু করছেন অনেকে। কিন্তু তাঁদের অনেকেরই নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কিংবা সড়কে গাড়ি চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা। ফলে যাত্রী ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে হঠাৎ ব্রেক করা, সড়কে অবস্থান পরিবর্তন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ একাধিক জনের।

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩০

মো. বদরুল আলম বিপুল, সখীপুর (টাঙ্গাইল)

বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই সখীপুরে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা (স্থানীয়ভাবে যা অটো নামে পরিচিত) কিনে চালানো শুরু করছেন অনেকে। কিন্তু তাঁদের অনেকেরই নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কিংবা সড়কে গাড়ি চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা। ফলে যাত্রী ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে হঠাৎ ব্রেক করা, সড়কে অবস্থান পরিবর্তন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ একাধিক জনের।

সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী এই অটো চালকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেকেই বিদেশে থাকা অবস্থায় দেশে ফেরার পর অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন অথবা পুরাতন অটো কিনে চালানো শুরু করেন। কিন্তু গাড়ি চালানোর আগে তাঁদের দক্ষতা যাচাই বা প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা থাকে না।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান নোমান বলেন, তাঁর পরিচিত মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বিদেশ থেকে দেশে ফেরার এক/দুই সপ্তাহের মধ্যেই একটি অটো কিনে চালানো শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিনের যেতে না যেতেই সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। একইভাবে কালাম মিয়া নামের আরেক পরিচিত ব্যক্তিও বিদেশ থেকে দেশে ফিরে অটো কিনে চালানো শুরু করেন। পরে তিনিও দুর্ঘটনার শিকার হন।

নোমান আরও বলেন, অটোচালকদের বড় একটি সমস্যা হলো সড়কে চলাচলের মৌলিক নিয়ম না মানা। বিশেষ করে কোনো যাত্রীকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেই অনেক চালক পেছনে বা সামনে থাকা যানবাহন আছে কিনা বিবেচনা না করে হঠাৎ ব্রেক করেন। উনারা অনেক সময় খালি অটো রাস্তার বিপরীত পাশে যাত্রী দেখলেই ওঠানোর জন্য কোনো ধরনের ইঙ্গিত বা সংকেত না দিয়েই গাড়ি অন্য পাশে নিয়ে যান। এতে পেছন থেকে আসা মোটরসাইকেল, অন্য অটো,ভ্যান কিংবা অন্য যানবাহনের চালকরা দুর্ঘটনার শিকার হন। আমি মোটরসাইকেল নিয়ে অফিসে যাতায়াত করি। আমার মোটরসাইকেলের সাথে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। মোটরসাইকেলের সামান্য ক্ষতিও হয়েছে।

পথচারী আয়নাল, শফিক, মোস্তফা, আরাফাত’সহ আরো অনেকে বলেন, সড়কে হঠাৎ অটো থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে প্রায়ই যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার অনেক অটো চালক অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করেন। ভাঙা বা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ না করায় কখনো গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। আবার কখনো অন্য যানবাহন বা পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুধু অটো যাত্রী নয়, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বাজার ও জনবহুল এলাকায় যাত্রী ওঠানামার সময় হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে।

বিদেশ ফেরত অটোচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, তিন চাকার গাড়ি জোরে চালালে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। চেষ্টা করি আস্তেধীরে দেখেশুনে চালাতে। নিজের এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে। বসে থাকলে খরচ হয় জমানো টাকা শেষ হয়ে যায় তাই বাধ্য হয়ে এটা কিনছি। যেন প্রতিদিনের বাজার খরচ চলে।

উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, তিন চাকার অটো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। চালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গাড়ির ফিটনেস, চালকের দক্ষতা এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো দরকার।

তিনি আরো বলেন, একজন নতুন চালককে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই ছাড়া সরাসরি সড়কে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। যাত্রী ওঠানামার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. এমারত হোসেন বলেন,

অটোরিকশা চালকদের অনেকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত উপজেলার কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে চালকদের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সখীপুর তালতলা চত্বরে নিয়মিত দুজন ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা গেলে যানজটের পাশাপাশি অটোরিকশার হঠাৎ মোড় নেওয়া, সাইড দেওয়া ও আকস্মিক ব্রেক করার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, অটোচালকদের বিষয়ে আমরা শিগগিরই মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলব। অনভিজ্ঞ চালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ ও আলোচনা করা হবে। সেখানে কীভাবে আরও সতর্ক ও নিরাপদভাবে গাড়ি চালানো যায়, সে বিষয়ে তাদের সচেতন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা অসতর্কভাবে নিয়ম না মেনে গাড়ি চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে টাংগাইল জেলার বিআরটিএ এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, এসব তিন চাকার অটো বিআরটিএ এর আওতাভুক্ত নয় এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের কোনো ব্যবস্থা নেই।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।