মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

তিন চাকার অটোতে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, প্রশিক্ষণহীন চালক নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই সখীপুরে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা (স্থানীয়ভাবে যা অটো নামে পরিচিত) কিনে চালানো শুরু করছেন অনেকে। কিন্তু তাঁদের অনেকেরই নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কিংবা সড়কে গাড়ি চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা। ফলে যাত্রী ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে হঠাৎ ব্রেক করা, সড়কে অবস্থান পরিবর্তন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ একাধিক জনের।

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩০

মো. বদরুল আলম বিপুল, সখীপুর (টাঙ্গাইল)

বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই সখীপুরে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা (স্থানীয়ভাবে যা অটো নামে পরিচিত) কিনে চালানো শুরু করছেন অনেকে। কিন্তু তাঁদের অনেকেরই নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কিংবা সড়কে গাড়ি চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা। ফলে যাত্রী ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে হঠাৎ ব্রেক করা, সড়কে অবস্থান পরিবর্তন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ একাধিক জনের।

সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী এই অটো চালকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেকেই বিদেশে থাকা অবস্থায় দেশে ফেরার পর অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন অথবা পুরাতন অটো কিনে চালানো শুরু করেন। কিন্তু গাড়ি চালানোর আগে তাঁদের দক্ষতা যাচাই বা প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা থাকে না।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান নোমান বলেন, তাঁর পরিচিত মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বিদেশ থেকে দেশে ফেরার এক/দুই সপ্তাহের মধ্যেই একটি অটো কিনে চালানো শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিনের যেতে না যেতেই সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। একইভাবে কালাম মিয়া নামের আরেক পরিচিত ব্যক্তিও বিদেশ থেকে দেশে ফিরে অটো কিনে চালানো শুরু করেন। পরে তিনিও দুর্ঘটনার শিকার হন।

নোমান আরও বলেন, অটোচালকদের বড় একটি সমস্যা হলো সড়কে চলাচলের মৌলিক নিয়ম না মানা। বিশেষ করে কোনো যাত্রীকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেই অনেক চালক পেছনে বা সামনে থাকা যানবাহন আছে কিনা বিবেচনা না করে হঠাৎ ব্রেক করেন। উনারা অনেক সময় খালি অটো রাস্তার বিপরীত পাশে যাত্রী দেখলেই ওঠানোর জন্য কোনো ধরনের ইঙ্গিত বা সংকেত না দিয়েই গাড়ি অন্য পাশে নিয়ে যান। এতে পেছন থেকে আসা মোটরসাইকেল, অন্য অটো,ভ্যান কিংবা অন্য যানবাহনের চালকরা দুর্ঘটনার শিকার হন। আমি মোটরসাইকেল নিয়ে অফিসে যাতায়াত করি। আমার মোটরসাইকেলের সাথে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। মোটরসাইকেলের সামান্য ক্ষতিও হয়েছে।

পথচারী আয়নাল, শফিক, মোস্তফা, আরাফাত’সহ আরো অনেকে বলেন, সড়কে হঠাৎ অটো থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে প্রায়ই যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার অনেক অটো চালক অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করেন। ভাঙা বা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ না করায় কখনো গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। আবার কখনো অন্য যানবাহন বা পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুধু অটো যাত্রী নয়, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বাজার ও জনবহুল এলাকায় যাত্রী ওঠানামার সময় হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে।

বিদেশ ফেরত অটোচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, তিন চাকার গাড়ি জোরে চালালে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। চেষ্টা করি আস্তেধীরে দেখেশুনে চালাতে। নিজের এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে। বসে থাকলে খরচ হয় জমানো টাকা শেষ হয়ে যায় তাই বাধ্য হয়ে এটা কিনছি। যেন প্রতিদিনের বাজার খরচ চলে।

উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, তিন চাকার অটো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। চালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গাড়ির ফিটনেস, চালকের দক্ষতা এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো দরকার।

তিনি আরো বলেন, একজন নতুন চালককে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই ছাড়া সরাসরি সড়কে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। যাত্রী ওঠানামার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. এমারত হোসেন বলেন,

অটোরিকশা চালকদের অনেকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত উপজেলার কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে চালকদের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সখীপুর তালতলা চত্বরে নিয়মিত দুজন ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা গেলে যানজটের পাশাপাশি অটোরিকশার হঠাৎ মোড় নেওয়া, সাইড দেওয়া ও আকস্মিক ব্রেক করার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, অটোচালকদের বিষয়ে আমরা শিগগিরই মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলব। অনভিজ্ঞ চালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ ও আলোচনা করা হবে। সেখানে কীভাবে আরও সতর্ক ও নিরাপদভাবে গাড়ি চালানো যায়, সে বিষয়ে তাদের সচেতন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা অসতর্কভাবে নিয়ম না মেনে গাড়ি চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে টাংগাইল জেলার বিআরটিএ এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, এসব তিন চাকার অটো বিআরটিএ এর আওতাভুক্ত নয় এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের কোনো ব্যবস্থা নেই।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।