ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে সেখানে অবস্থান করে তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার কারণ ভারত সরকারেরই ব্যাখ্যা করা উচিত।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক জনসম্মুখে বক্তব্য।
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা আগেই ভারত সরকারকে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার জন্য দলটি এখনো দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চায়নি। বরং ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, দলটির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়; এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মত দমন, গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার বিচার জনগণও করবে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।