‘নব্য স্বৈরশাসন’ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য রাজপথে নেমেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো দলের জন্য নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোডে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ। মাঝখানে আর কোনো বিশ্রাম নেই, বিরতি নেই। অবিরাম এই কাফেলা চলতেই থাকবে।’
আগের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের পর থেকেই সরকার বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে শুরু করেছে।
সরকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ভোটের রায়কে সম্মান করা হয়নি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগেরও সমালোচনা করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতেই তাদের আন্দোলন চলছে।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন এবং এসব দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
১১ দলীয় ঐক্যের দাবি ছয় দফা থেকে আট দফায় যাওয়ার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।’
ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে।’ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পরবর্তী কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পথসভায় নারী অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তীব্র রোদ উপেক্ষা করে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ তাদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততার প্রমাণ।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।